ঢাকা শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফিফার প্রস্তাবের পর জরুরি বৈঠক ডাকলো উয়েফা

স্পোর্টস ডেস্ক | জুলাই ৩০, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম ফিফার প্রস্তাবের পর জরুরি বৈঠক ডাকলো উয়েফা

ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব পরিকল্পনা নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে উয়েফা। বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল এই বৈঠকে প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ফুটবলের পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

বিবিসির হাতে আসা একটি চিঠি অনুযায়ী, ফিফা তাদের ২১১টি সদস্য দেশকে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জানাতে বলেছে তারা এই পরিকল্পনায় সম্মতি দেবে কি না। সম্মতি দিলে সদস্য দেশগুলো প্রস্তাবিত ৪০ মিলিয়ন ডলারের এককালীন অনুদানের প্রথম কিস্তি হিসেবে ২০ মিলিয়ন ডলার পাবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমর্থন না দিলে এই অর্থের প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হবে।

এ নিয়ে উয়েফা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সমর্থন না দিলে অর্থের প্রস্তাব তুলে নেওয়ার জন্য ফিফা যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, তা আমরা জেনেছি। এই পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।’

এর আগে উয়েফা অভিযোগ করেছিল, ফিফা ‘ সীমা অতিক্রম করেছে’।

ফিফার প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপসহ সংস্থাটির বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিনিয়োগের নেতৃত্ব দেবে ‘থ্রাইভ ইটারনাল’ নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, যার মালিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশুয়া কুশনার।

প্রস্তাবটি নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেক জাতীয় ফুটবল সংস্থা। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছে। এমনকি ফিফার সহসভাপতি এবং এফএর চেয়ার ডেবি হিউইটকেও আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। উয়েফার পাশাপাশি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন, কনমেবল এবং কনকাকাফও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের চার সেমিফাইনালিস্টের মধ্যে তিনটিই উয়েফাভুক্ত। তাই উয়েফার সদস্য দেশগুলো যদি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পুরো প্রকল্পের আর্থিক ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। যদিও এটিকে এখনো সম্ভাবনার একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ের পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে চেক প্রজাতন্ত্র ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড ট্রুন্ডা বলেছেন, ‘চেক ফুটবলের জন্য এই পরিকল্পনার বাস্তব কিছু সুবিধা আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে বুধবার আট পৃষ্ঠার একটি ব্যাখ্যাপত্র প্রকাশ করেছে ফিফা। সেখানে সংস্থাটি বলেছে, ফুটবলের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক আয়ের যথেষ্ট অংশ এখনো খেলাটির প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতে পৌঁছায় না।

ফিফার দাবি, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উন্নত মানের মাঠ নির্মাণ, জাতীয় দলগুলোর বিকাশ, তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি এবং নারী ফুটবলে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে।

বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইনফান্তিনো বলেন, ‘এটি একটি প্রস্তাব, কোনো বাধ্যবাধকতা নয়। এটি একটি গণতান্ত্রিক পরামর্শ প্রক্রিয়ার অংশ এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে গতি আনার একটি সুবর্ণ সুযোগ।’

ফিফা আরও দাবি করেছে, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের বিশ্বকাপ পরিচালনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো প্রভাব থাকবে না। একই সঙ্গে কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তানের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনকে তারা নিজেদের উন্নয়ন কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল হিসেবে তুলে ধরেছে।

তবে ইউরোপিয়ান লিগস সংগঠন এই পরিকল্পনাকে ‘বিশ্ব ফুটবলের জন্য বেপরোয়া ও বিভাজনমূলক উদ্যোগ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ‘বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়। এটি ফিফা সভাপতির ব্যক্তিগত বিনিয়োগ সম্পদও নয়।’

বিশ্ব ফুটবল খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রোও ফিফাকে দ্রুত এই প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, বিশ্বকাপকে বেসরকারি বিনিয়োগের সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ প্রতিযোগিতাগুলোর মৌলিক কাঠামো ও উদ্দেশ্য স্থায়ীভাবে বদলে দিতে পারে।

স্প্যানিশ লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস অভিযোগ করেছেন, আগামী মার্চে ফিফা কংগ্রেসের আগে সমর্থন আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা আনা হয়েছে।

তার ভাষায়, ‘এটি কোনো সংস্কার নয়, বরং ফুটবলের ভবিষ্যৎ ব্যবহার করে পরিচালিত একটি নির্বাচনী প্রচারণা। উন্নয়নের নামে ভোট বা নীরবতা কেনা উচিত নয়। ফিফার প্রতিযোগিতা ও বাণিজ্যিক স্বত্ব ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।’

জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সভাপতি হান্স-ইয়োয়াখিম ভাটস্কেও এই পরিকল্পনাকে ‘ফুটবলের ওপর সরাসরি আক্রমণ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তার মতে, ‘এখানে একটি সীমা অতিক্রম করা হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবল যদি একজোট হয়ে এর বিরোধিতা করে, তাহলে সেটির গুরুত্ব অনেক বড় হবে।’

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!