সাধারণত হালি পদ্ধতিতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাপের পেঁয়াজের আবাদ হয়। কিন্তু এ বছর হালি পদ্ধতিতে পেঁয়াজের আবাদে আগামরা রোগ বেশি দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা বলেছেন মুড়ি কাটা পেঁয়াজ কম দামে বিক্রি করে ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন তারা। এর উপরে হালি পেঁয়াজের আগা মরা রোগ এসেছে। অনেক কৃষকেরা মনে করতেছে আবহাওয়ার কারণে এই রোগটা বেশি দেখা দিয়েছে।
গত রবিবার দূর্গাপুরের হাটে হালি অর্থাৎ আইলের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০০থেকে ৮০০টাকা মণ, এতে কৃষকেরা বড় আকারে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
চৌবাড়িয়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষি রফিক মিয়া বলেন আমি পনেরো কাঠা মাটিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ করেছিলাম,সব মিলে ৪০হাজার টাকা লসে আছি,ভেবেছিলাম হালি পেঁয়াজ করে লস পুসিয়ে নিবো,কিন্তু এখনো হালি পেঁয়াজের যে বাজার,সার ও বীজের টাকাই উঠবে না।
দূর্গাপুর বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক আবদুল মান্নান বলেন,এবার ফলন ভালো হয়েছে ঠিকই,কিন্তুু বাজারে এসে দেখি দাম নেই,৭০০থেকে৮০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করে সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিক খরচ উঠে না।আমি এক বিঘা মাটিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি,বাজার যে অবস্থা এই বাজার থাকলে ৭০থেকে৮০হাজার টাকা লস হবে আমার।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলেন,বাজারে পেঁয়াজ ২০০০থেকে২৫০০ টাকা মণ যদি কৃষকরা বিক্রি করতে পারতো তাহলে হয়তো খরচের টাকা ওঠাতে পারতো। আরেক দিকে পেঁয়াজের আমদানি নিয়ন্ত্রণ না করা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এর অন্যতম কারণ। সময়মতো ন্যায্য দাম নিশ্চিত না করা হলে,কৃষকরা ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষে অনাগ্রহী হয়ে পরবে।যা দেশীয় পেঁয়াজ উৎপাদনে জন্য বড় হুমকি হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে দূর্গাপুরে কৃষি কমকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন,এবার এই অঞ্চলে পেঁয়াজের উৎপাদন অনেক বেশি হওয়ায়, দামটা হয়তো একটু কম, তবে পেঁয়াজ পচনশীল ফসল,দামটা বেশি হলে কৃষকেরা লাভবান হত।
কারের সমাজ/ কেপি

