ঢাকা শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২

একজন সিভিল জজের অপেক্ষায় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান | এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম একজন সিভিল জজের অপেক্ষায় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের জেলা ও দায়রা জজ আদালত টি’তে ৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত পুরো বান্দরবানে মাত্র একটি দেওয়ানী আদালত রয়েছে যেখানে মাত্র একজন সিনিয়র সিভিল জজ বসেন।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই আদালত দীর্ঘ ৯ মাস ধরে শূণ্য পড়ে আছে। ফলে হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই বললেই চলে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত ৯ মাস আগে সিনিয়র সিভিল জজ মোহাম্মদ দাউদ হাসান পদোন্নতিজনিত কারণে বদলি হয়ে যায়।

কিন্তু তার শূন্যপদ পূরণ করার জন্য কোন সিনিয়র সিভিল জজ এখনো পদায়ন করা হয়নি। কখন এই শূন্যপদ পূরণ হবে তাও কারো জানা নেই এখন পর্যন্ত।বান্দরবানের দেওয়ানী আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাজীব চন্দ্র ধর জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র সিভিল জজের পদ শূন্য থাকায় সিভিল বিচারব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এতে সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা চরম ভোগান্তির পড়ছেন।বর্তমানে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত, বান্দরবান (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে কিছু সিভিল মামলা শুনানি করলেও নিজ আদালতের মামলার চাপের কারণে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হিমশিম হচ্ছে।বান্দরবান জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু জাফর জানান, এই আদি এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতটিতে জেলার প্রায় নব্বই ভাগ দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন।তাছাড়াও, গ্রাম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এই আদালতেই দায়ের ও নিষ্পত্তি করা হয়। কিন্তু বিচারক না থাকায় প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

ফলে জেলার দেওয়ানি বিচার ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।আদালত এবং একাধিক আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এই আদালতে বিপুল সংখ্যক দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন থাকলেও বিচারক না থাকায় মামলা ফাইলিং, জরুরি নিষেধাজ্ঞা শুনানি, সাক্ষ্য গ্রহণ, তদন্তসহ সবধরনের কার্যক্রম অচল হয়ে আছে। সুতরাং, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবের স্বার্থে সিনিয়র সিভিল জজের শূন্য পদে অবিলম্বে একজন যোগ্য বিচারক পদায়নের জন্য জোর দাবী জানায়।বান্দরবান জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম জানান, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিতকৃত আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং ৩৫ (৩) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত দ্রুত ও ন্যায্য বিচার লাভের অধিকারের পরিপন্থী।

একইসাথে এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার (অপপবংং ঃড় ঔঁংঃরপব) ও ন্যায্য বিচারের অধিকার (ঋধরৎ ঞৎরধষ)-এর মৌলিক নীতিরও পরিপন্থী।তিনি আরও জানান, বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে অযৌক্তিক বিলম্ব ঘটার কারনে ভূমি ও পারিবারিক বিরোধ জটিল আকার ধারণ করছে এবং সামগ্রিকভাবে আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

 

কালের সমাজ/ কে.পি

Link copied!