সাংবাদিক ও ট্রাম্পের জীবনীকার মাইকেল উলফ একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ও পডকাস্টে দাবি করেছেন যে, জেফরি এপস্টাইন ২০০৭ সালের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “তিনি মেলানিয়ার সাথে যৌন সম্পর্ক করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার সম্পর্ক শুরু হওয়ার এক পূর্ণ বছর আগে।” উলফ এটি উল্লেখ করেছেন একটি নতুন বই প্রসঙ্গে, যেখানে এপস্টাইনের সাথে তার রেকর্ড করা কথোপকথনের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ক্নাউস (বর্তমানে ট্রাম্প) ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে পাওলো জাম্পোলির একটি পার্টিতে প্রথম দেখা করেন। মেলানিয়া তখন ২৮ বছরের স্লোভেনিয়ান মডেল। ট্রাম্প তখন অন্য একজনের সাথে ডেটে ছিলেন, কিন্তু মেলানিয়ার সাথে কথা বলে তার ফোন নম্বর নেন। কয়েক সপ্তাহ পর তারা ডেটিং শুরু করেন এবং ২০০৫ সালে বিয়ে করেন।
উলফের দাবি, এপস্টাইন বলেছেন যে তিনি মেলানিয়াকে চিনতেন এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল ১৯৯৭ সালের দিকে। তিনি আরও দাবি করেন যে, ট্রাম্প ও মেলানিয়ার প্রথম যৌন সম্পর্ক হয় এপস্টাইনের বিমান “ললিতা এক্সপ্রেস”-এ। এই দাবিগুলো এপস্টাইনের সাথে উলফের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার (প্রায় ১০০ ঘণ্টা রেকর্ডিং) থেকে এসেছে বলে উলফ জানিয়েছেন।
তবে এই দাবি বিতর্কিত। জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কে হঠাৎ করেই ক্যামেরার সামনে কথা বললেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। তিনি এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারি সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকার কথা জানিয়েছেন। এমনকি তিনি ভুক্তভোগীও নন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান স্ত্রী ও স্লোভেনীয় বংশোদ্ভূত এই সাবেক মডেল কেন হঠাৎ প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তা স্পষ্ট নয়। প্রয়াত যৌন অপরাধীর সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে কোনো অভিযোগ উঠেছে কি না সেটিও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
মেলানিয়া সাধারণত সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে কথা বলেন না। তবে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ৫৫ বছর বয়সী মার্কিন ফার্স্ট লেডি হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘কলঙ্কিত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে যেসব মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো আজই শেষ হওয়া দরকার। যারা আমাকে নিয়ে মিথ্যা বলছে, তাদের নৈতিক মানদণ্ড, বিনয় এবং শ্রদ্ধাবোধের অভাব আছে।’
বেশ কয়েক বছর আগে প্রকাশিত একটি ছবিতে মেলানিয়া এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টেইনকে দেখা গিয়েছিল। তবে মেলানিয়া বলেন, জেফরির সঙ্গে পরিচয়ের দুই বছর আগেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এপস্টেইন তাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেননি।
মার্কিন ফার্স্ট লেডি বলেন, ‘এপস্টেইন এবং আমাকে নিয়ে বহু বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ছবি প্রচার করা হচ্ছে। এই ছবি ও বর্ণনাগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য একটি গণশুনানি আয়োজন করতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন মেলানিয়া।
এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দুই বোন মারিয়া এবং অ্যানি ফারমার বৃহস্পতিবার ফার্স্ট লেডির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা অন্য সারভাইভারদের হয়ে কথা বলতে পারি না। তবে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও বিচার চাই।’
মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে থাকা অবশিষ্ট নথিগুলো প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন মারিয়া ও অ্যানি। বিশেষ করে তারা ১৯৯৬ সাল থেকে এফবিআইয়ের কাছে থাকা নথিগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
উল্লেখ্য, এপস্টিন ও ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল ১৯৮০-৯০ এর দশকে। তারা একসাথে পার্টি করতেন, কিন্তু ২০০৪ সালের দিকে তাদের সম্পর্ক খারাপ হয়। এপস্টাইন ২০১৯ সালে জেলে মারা যান।
কালের সমাজ/এসআর

