ঢাকা সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২

মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, আদালতে মামলা

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান | এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, আদালতে মামলা

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইয়াছিন হোসেন (৭) নামের এক ছাত্রকে একাধিকবার মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের বড়বমু নতুন মুসলিম পাড়া নূরানী মাদ্রাসায় পাঠদানের সময় ঘটনাটি ঘটে। ইয়াছিন হোসেন নতুন মুসলিম পাড়া নূরানী মাদ্রাসার ২য় শ্রেণীর ছাত্র ও বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের ফাদুখোলা গ্রামের মো. মোজাম্মেল’র ছেলে। 

 

বিষয়টি সমাধা না করে উল্টো মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা শিশু ছাত্র ইয়াছিন হোসেনকে মাদ্রাসায় না পড়ানোর পাশাপাশি এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণ নাশেরও হুমকি দেন বলে দাবী করা হয়। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে লামা উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন ছাত্র ইয়াছিন হোসেনের বাবা মো. মোজাম্মেল। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ইন্নামিন (৩৫) ও বেলাল উদ্দিন (৩৩) এবং শিক্ষক ইরফান (৩২)। অভিযোগে জানা যায়, আশপাশে কোন মাদ্রাসা না থাকায় কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের ফাদুখোলা গ্রামের বাসিন্দা মো. মোজাম্মেল এর শিশু সন্তান ইয়াছিন হোসেনকে নতুন মুসলিম পাড়া নূরানী মাদ্রাসায় ভর্তি করেন স্বজনেরা। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াছিন হোসেন দুইটি পাহাড়ি ঝিরি পাড়ি দিয়ে পায়ে হেঁটে ওই মাদ্রাসায় যাওয়া আসা করে।

 

 প্রতিদিনের মত গত ১ এপ্রিলও মো.ইয়াছিন হোসেন মাদ্রাসায় যায়। এ সময় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ইন্নামিন ও বেলাল উদ্দিনের প্ররোচনায় শিক্ষক ইরফান ছাত্র ইযাছিন হোসেনকে মারধর করেন। এতে কান্নাকাটি করলে ইন্নামিন ও বেলাল উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ইয়াছিন হোসেনকে ফের এলোপাতাড়ি চড় ও কিলঘুষি মারেন। 

এতে ছাত্র ইয়াছিন হোসেন এর কান ফেটে যাযএখন কান থেকে রক্ত ফুজ বের হচ্ছে। খবর পেয়ে বাবা মো. মোজাম্মেল ছাত্র ইয়াছিন হোসেনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এর আগে ৩১ মার্চও ইয়াছিনকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে এসব ঘটনা সমাধানের লক্ষ্যে গত ২ এপ্রিল বিকাল তিনটার দিকে এক সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অভিযুক্ত ইন্নামিন ও বেলাল উদ্দিনের অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বিষযটি সমাধা হয়নি। 

 

বরং অভিযুক্তরা বৈঠকে শিশু ছাত্র ইয়াছিন হোসেনকে মাদ্রাসায় না পড়ানোর পাশাপাশি এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণ নাশেরও হুমকি দেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বেলাল উদ্দিন জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য আয়োজিত বৈঠকে ছাত্র ইয়াছিন হোসেনের বাবা মো. মোজাম্মেল আমাদেরকে গালিগালাজসহ মারার জন্য তেড়ে আসে। তায় বিষয়টি সমাধা করা যায়নি। আমরা প্রাণ নাশের হুমকির বিষয়টি মিথ্যা। এদিকে ছাত্র ইয়াছিনকে মারধরের বিষয়টি খুবই দু:খ জনক বলে জানান সমাজ সর্দার মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এভাবে মারধর করা হলে শিশুরা শিক্ষাবিমুখ হয়ে পড়বে।

 

 ছাত্র ইয়াছিন হোসেন বলেন, হুজুর আমাকে মারছে। এখন আমার কান থেকে রক্ত ফুজ বের হচ্ছে, কানে খুব ব্যাথা করছে। অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক এরফান বলেন, ইয়াছিন হোসেন বাড়ির কাজ করে আনেনি বলে মারধর করা হয়েছিল। এতে যে এত ক্ষতি হবে, তা বুঝতে পারিনি। পরবর্তীতে আমি ভূল স্বীকার করে মো. ইয়াছিন হোসেনে বাবার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা খরচ দিবো বলেছি। ছাত্র ইয়াছিনকে মারধরের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেন, লামা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী কবির হোসাইন শান্ত। এ বিষয়ে লামা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় আদালতে দায়েরকৃত মামলার অভিভাবক আদালতে মামলা করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!