দেশের আর্থিক খাতে সুদহার কত চলছে, তার একটি ধারণা দিতে দৈনিক দুটি ‘রেফারেন্স রেট’ প্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার থেকে সুদহারের এ মানদণ্ড প্রকাশ করা হবে।
সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বন্ড, ‘ফ্লোটিং রেটের’ পণ্য ও বিভিন্ন আর্থিক চুক্তিতে সুদহার কত হতে পারে, তার একটি ধারণা সূচক (প্রাইস ইন্ডিকেটর) হিসেবে এই ‘রেফারেন্স রেট’ কাজ করবে।
বাজারভিত্তিক ঋণ সুদহার র্নিধারণে আন্তর্জাতিকভাবে এসওএফআর বা সোফার রেট ব্যবহার হয়। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ‘বাংলাদেশ ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট’ (বিওএফআর) প্রকাশ করবে। প্রকাশ করা হবে ‘ঢাকা ওভারনাইট মানি মার্কেট রেটও’ (ডিওএমএমআর)।
এর মাধ্যমে সুদহারের নিজস্ব রেফারেন্স রেট থাকা দেশের তালিকায় যুক্ত হবে বাংলাদেশ।
দুটি রেফারেন্স রেটের মধ্যে বিওএফআর ঝুঁকিমুক্ত। আগের দিনে ব্যাংকগুলোর মধ্যে আন্তঃব্যাংক রেপো (সিকিউরড) অর্থাৎ শতভাগ জামানতের বিপরীতে ব্যাংকের দেওয়া স্বল্প মেয়াদী ঋণের সুদহারের গড় তথ্যর আলোকে তৈরি করা হবে বিওএফআর।
প্রথম দিকে দৈনিক ও এক সপ্তাহ মেয়াদী সুদহারের রেফারেন্স রেট জানানো হবে বিওএফআরে।
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা বিভাগের পরিচালক ও সহকারি মুখপাত্র মোহাম্মদ শহারিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “এটি আগাম কোনো রেফারেন্স রেট না। আগের দিনের লেনদেনের ভিত্তিতে সুদহার কত হয়েছে, তা জানানো হবে। এটি চূড়ান্ত সুদহারও না। গ্রাহকদের জন্য একটি ধারনা সূচক হিসেবে কাজ করবে।”
এ রেফারেন্স সুদহারের সঙ্গে যোগ বা বিয়োগ করেও ঋণ সুদহার নির্ধারণ করা যাবে বলে জানিয়েছেন ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক ইস্তেকমাল হোসেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, রেফারেন্স রেটের চেয়ে ‘অস্বাভাবিক’ কম বা বেশি সুদহার নির্ধারণ কিংবা বাজারভিত্তিক সুদহারকে ‘ম্যানিপুলেট’ (প্রভাবিত) করার চেষ্টা হচ্ছে কিনা, তা নজরদারি করা হবে।
ইস্তেকমাল হোসেন বলেন, ‘‘প্রতিদিন ব্যাংকগুলোর লেনদেনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সুদহার পর্যালোচনা ও কয়েকটি লেনদেন দেখে রেফারেন্স ঠিক করা হয়। এটি বাস্তবে যা হয়, তার একটি সূচক।
“এজন্য রেফারেন্স রেট মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। খুব বেশি তারতম্য হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা দেখবে।”
সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক ঋণ সুদহার নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণে এই রেফারেন্স রেট সহায়ক হবে বলে মনে করছেন শাহরিয়ার সিদ্দিকী।
অন্যদিকে আগের দিনের আন্তঃব্যাংক মানি মার্কেটে ‘আনসিকিউরড’ লেনদেন হিসাব করে ডিওএমএমআর প্রকাশ করা হবে। জামানত ছাড়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে যে লেনদেন হবে, তার ভিত্তিতে এই রেফারেন্স রেট প্রকাশ করা হবে।
প্রথমদিকে একদিনের এবং পরবর্তীতে এক সপ্তাহ, এক মাস ও তিন মাস মেয়াদী ডিওএমএমআর প্রকাশ করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, রেফারেন্স রেট প্রকাশের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা যাচাইয়ে বছর শেষে পর্যালোচনা করা হবে।
রেফারেন্স রেট প্রকাশের মাধ্যমে দেশের আর্থিক বাজারের ঋণ সুদহার সম্পর্কে দৈনিক তথ্য পাওয়া যাবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আর্থিক বাজার সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাবেন বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত জানুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে রেফারেন্স রেট নির্ধারণ ও ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার পর চূড়ান্তভাবে রেফারেন্স রেট প্রকাশ করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বর্তমানে (সোমবার) এক দিনের বিওএফআর হচ্ছে ১০ দশমিক ২০ শতাংশ ও এক সপ্তাহের জন্য তা ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ।
অন্যদিকে ডিওএমএমআর রেফারেন্স রেট হচ্ছে ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর এক সপ্তাহের জন্য ১০ দশমিক ১০ শতাংশ, এক মাসের জন্য ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং তিন মাসের জন্য তা ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সুদহার র্নিধারণে ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ ফরেইন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) একটি রেট ‘ডিআইবিওআর’ প্রকাশ করে আসছে।
এ ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলো দৈনিক সুদহার প্রস্তাব করে। সেখানে সদস্য সব ব্যাংক নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করে না।
এতে ডিআইবিওআর পুরোটা বাজারভিত্তিক না হওয়ায় ও অস্বচ্ছতা থাকায় নতুন রেফারেন্স রেট প্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কালের সমাজ/কে.পি

