ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফরিদপুরের সালথায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

নগরকান্দা উপজেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর | জুন ৮, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম ফরিদপুরের সালথায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্রি ইউনিয়নের কাঠালবাড়িয়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ জুন গ্রামের একটি দোকানে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হইচইয়ের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে দুই দিন পর, ৭ জুন সকালে বিরোধ নতুন করে উত্তেজনায় রূপ নেয়।

একপর্যায়ে আজিজল মোল্লা ও হাবি মাতুব্বর সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে আজিজল মোল্লা গ্রুপের ওমর আলী শেখ ও আজিজল মোল্লার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। অপরদিকে হাবি মাতুব্বর গ্রুপের আলম মোল্লাসহ কয়েকজনের বাড়িঘরও ভাঙচুর করা হয়।

সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন হিরু মোল্লা (৩০), সামিম মোল্লা (২৮), এনায়েত মোল্লা (২৫), ওমর আলী শেখ ও ইমামুল শেখ। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও উভয় পক্ষের আরও বহু ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

হাবি মাতুব্বরের পরিবারের দাবি, শুক্রবার রাতে পুলিশ আনিস মোল্লাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে থানা থেকে ফিরে এসে হাফিজুল মাতুব্বরের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনও রয়েছে। আজিজল মোল্লাকে আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং হাবি মাতুব্বরকে বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।  তবে রাজনৈতিক কারণে সংঘর্ষের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। গট্রি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলুর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের পর থেকে গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেক পুরুষ সদস্য এলাকা ছেড়ে যাওয়ায় মহল্লাগুলো প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!