বাংলাদেশে নারী হকির অভূতপূর্ব সাফল্য এবং এই খাতে পূর্ববর্তী উদ্যোগগুলোর ইতিবাচক ফলাফলের ধারাবাহিকতায় ‘ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি উন্নয়ন কর্মসূচি’ সম্প্রসারণে ২০২৬ সালের জন্য আরও ২ কোটি টাকার অঙ্গীকার করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সঙ্গে নতুন করে একটি অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে ব্যাংকটি।
এই বিনিয়োগের মাধ্যমে সারা বছরব্যাপী পরিচালিত হবে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচি, যার লক্ষ্য নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা, খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের নারী হকি খেলোয়াড় তৈরির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলা। এর আগে ব্র্যাক ব্যাংক ‘অপরাজেয় আলো নারী হকি টুর্নামেন্ট ২০২৫’ আয়োজনের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছিল।
সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংকের ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উদীয়মান নারী হকি খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। জেলা পর্যায়ে প্রতিভা অনুসন্ধান ও প্রশিক্ষণ, গোলরক্ষকদের জন্য বিশেষায়িত আবাসিক প্রশিক্ষণ, বিকেএসপির মেধাবী খেলোয়াড়দের জন্য শিক্ষাবৃত্তি এবং জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের জন্য একটি সুস্পষ্ট উন্নয়নধারা তৈরি করা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ৫০০-এর বেশি নারী খেলোয়াড় পেশাদার প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। নতুন খেলোয়াড়দের পাশাপাশি শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের জন্যও থাকবে উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা, যাতে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারেন।
কর্মসূচির সমাপনী আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে ‘ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি টুর্নামেন্ট ২০২৬’, যেখানে সারা দেশ থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা নিজেদের সামর্থ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন।
ইতোমধ্যেই এই উদ্যোগের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের টুর্নামেন্ট থেকে ১১ জন নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে এসেছেন, যাদের মধ্যে চারজন এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে বাংলাদেশের দলে স্থান করে নিয়েছেন। এই নারী হকি দল রানার-আপ হয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস বাছাইপর্ব উত্তীর্ণ হওয়ার সাফল্য অর্জন করে।
এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন,“স্যার ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশের প্রতিভার কোনো অভাব নেই; অভাব রয়েছে সুযোগের। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা এমন একটি শক্ত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলছি, যা তরুণীদের আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা ও দক্ষতার সঙ্গে তাঁদের ক্রীড়া স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দেবে। এটি শুধু খেলাধুলায় বিনিয়োগ নয়; এটি অন্তর্ভুক্তি, ক্ষমতায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনায় বিনিয়োগ।”
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজুল হাসান (অব.) বলেন,“বাংলাদেশে নারী হকির সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। ব্র্যাক ব্যাংকের ধারাবাহিক সহায়তা তৃণমূল পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
অন্তর্ভুক্তি, ক্ষমতায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত ব্র্যাক ব্যাংকের কর্পোরেট দায়িত্বশীলতা (সিএসআর) কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘অপরাজেয় আলো’। নারী ক্রীড়াবিদদের বিকাশে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটি জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে অবদান রেখে চলেছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার ভিশন নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি. ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে, যা এখন পর্যন্ত দেশের অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী একটি ব্যাংক। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ‘BRACBANK’ প্রতীকে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন হয়। ৩১০টি শাখা ও উপশাখা, ৩৩০টি এটিএম, ৪৪৬টি এসএমই ইউনিট অফিস, ১,১১৯টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং দশ হাজারেরও বেশি কর্মীর বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক কর্পোরেট ও রিটেইল সেগমেন্টেও সেবা দিয়ে আসছে। ব্যাংকটি দৃঢ় ও শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে এখন সকল প্রধান মাপকাঠিতেই ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষে অবস্থান করছে। বিশ লাখেরও বেশি গ্রাহক নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক বিগত ২৪ বছরে দেশের সবচেয়ে বৃহৎ জামানতবিহীন এসএমই অর্থায়নকারী ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।

