ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিবির নেতা জিসানের ‘নিখোঁজ’ নাটকের নেপথ্যে...

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা | জুন ১৩, ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম শিবির নেতা জিসানের ‘নিখোঁজ’ নাটকের নেপথ্যে...

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, বিয়ের চাপ এড়াতে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করার পর এক বিধবা নারীর দায়ের করা মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, ভ্রূণ নষ্ট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টা ২৯ মিনিটের দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন উল্লেখ করে শুক্রবার (১২ জুন) দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তার পক্ষে জিডিটি করেন মো. রাসেল আহম্মেদ।

জিডির পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একাধিক টিম উদ্ধার অভিযানে নামে। অনুসন্ধানকালে জিসানের চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের দাবি, গত ২০ মে দাউদকান্দি এলাকায় জিসানের ভাড়া বাসায় ওই নারী ধর্ষণের শিকার হন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সন্তান নষ্ট না করলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে ভয়ভীতির মুখে ওই নারী গর্ভপাত করাতে সম্মত হন।

পুলিশ জানায়, জিসান তার বন্ধু সেকান্দার আলীর ওষুধের দোকান থেকে গর্ভপাতের ট্যাবলেট সংগ্রহ করে ওই নারীকে সেবন করান। ওষুধ সেবনের পর ভ্রূণ নষ্ট হয়। পরবর্তীতে শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তার চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে আরও ওষুধ সংগ্রহ করে ভুক্তভোগীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এদিকে গর্ভপাতের ঘটনার পর ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, জিসান ১২ জুন বিয়েতে সম্মতি দিলেও ১১ জুন রাত ৮টার পর বিয়ে এড়ানোর উদ্দেশ্যে আত্মগোপনে চলে যান। একই সঙ্গে তার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে দাউদকান্দি থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি করানো হয়।

নিখোঁজের জিডির অনুসন্ধান চলাকালে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন ও লাকসাম থানা পুলিশের সহায়তায় জিসানকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, তিনি নিখোঁজ ছিলেন না; বরং আত্মগোপনে ছিলেন।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি থানায় হাজির হয়ে জিসান মিয়া প্রধানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ৯(১)/৩০ এবং দণ্ডবিধির ৩১৩/৫০৬/৩৪ ধারায় দাউদকান্দি থানায় মামলা (নং-১৩) রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও উল্লেখ করা হয়েছে, জিডির অনুসন্ধানে জিসানের আত্মগোপনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, মামলার সকল অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!