পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রংপুর বিভাগের আট জেলায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। এই সংখ্যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ লাখ ৬৮ হাজার বেশি।
রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার জানান, এ বছর বিভাগজুড়ে কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ লাখ ১২ হাজারের কিছু বেশি। চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত পশু থাকায় রংপুর বিভাগ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কোরবানির পশু সরবরাহে সক্ষম হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, গরু চোরাচালান রোধে কড়া নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে প্রতিবেশী দেশ থেকে গবাদিপশু আমদানি না হওয়ায় দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশা করছেন।
রংপুর ডেইরি ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লতিফুর রহমান মিলন বলেন, “রংপুর বিভাগে এ বছর গরু ও ছাগলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। বাইরের কোনো পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। বরং উদ্বৃত্ত পশু দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ১,৯৭,৪১৪ জন খামারি কোরবানির জন্য গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ও উটসহ মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৯০টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে শতাধিক উট ও দুম্বাও রয়েছে।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আট জেলার পশু প্রস্তুতির চিত্র নিম্নরূপ:
- রংপুর: চাহিদা ২,২৪,৭৫২; প্রস্তুত ৩,৬৩,৩১২ (উদ্বৃত্ত ১,৩৮,৫৬০)
- গাইবান্ধা: চাহিদা ১,২৬,৩০৫; প্রস্তুত ১,৯৬,২৭৭ (উদ্বৃত্ত ৬৯,৯৭২)
- কুড়িগ্রাম: চাহিদা ২,২২,৮৪০; প্রস্তুত ৩,৩০,৪৮৬ (উদ্বৃত্ত ১,০৭,৬৪৬)
- নীলফামারী: চাহিদা ২,২৩,১৬৬; প্রস্তুত ২,৮৯,১৫৭ (উদ্বৃত্ত ৬৫,৯৫১)
- লালমনিরহাট: চাহিদা ১,৭১,৭৭৭; প্রস্তুত ২,৬২,৬৩১ (উদ্বৃত্ত ৯০,৮৫৪)
- দিনাজপুর: চাহিদা ২,৬৩,৬৪৬; প্রস্তুত ৩,৩৩,৪৮৫ (উদ্বৃত্ত ৬৯,৮৩৯)
- ঠাকুরগাঁও: চাহিদা ৭৫,৩৬১; প্রস্তুত ৯০,৮৮৬ (উদ্বৃত্ত ১৫,৫২৫)
পঞ্চগড়: চাহিদা ১,০৪,৩০০; প্রস্তুত ১,১৪,১৫৬ (উদ্বৃত্ত ৯,৮৫৬)
শেষ সময়ে পশুগুলোর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও গৃহস্থরা। অনেকেই খামার থেকে গরু বিক্রি শুরু করেছেন, আবার কেউ কেউ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পশু বিক্রির পথ বেছে নিচ্ছেন।
খামারিরা জানান, গো-খাদ্যের উচ্চমূল্য ও ঘাসের সংকটের কারণে পশুপালন এখন বেশ কঠিন। এক সময় মাঠে গরু ছেড়ে পালনের সুযোগ থাকলেও এখন গরুকে গোয়ালঘরেই রাখতে হচ্ছে।
তারা আরও জানান, দেশে উৎপাদিত গরুই কোরবানির চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। তাই ভারতীয় গরু যেন চোরাপথে না আসে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি চান খামারিরা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে রংপুর বিভাগের আট জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ২৯৫টি কোরবানির পশুর হাট বসানো হবে। এসব হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরু প্রবেশ রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে জোর নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
কালের সমাজ//র.ন

