ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে নরসিংদীতে

জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী | নভেম্বর ২২, ২০২৫, ১০:৫৪ এএম ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে নরসিংদীতে

তীব্র ভূমিকম্পের প্রভাবে নরসিংদীতে এখন পর্যন্ত পাঁচজন মারা গেছে। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে জেলায় তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, নরসিংদী সদর উপজেলার গাবতলি এলাকার মৃত আবদুল আজিজের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৭), তার শিশু সন্তান ওমর মিয়া (১২), পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা গ্রামের কাজেম আলী ভূইয়া (৭৫), ডাঙ্গা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া নয়াপাড়া গ্রামের সিরু মিয়ার ছেলে নাসির উদ্দিন (৬০) ও শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা গ্রামের মৃত শরাফাত আলীর ছেলে ফোরকান মিয়া (৪৫)।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নরসিংদীর মাধবদীতে ভূকম্পনটির উৎপত্তিস্থল। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭।

এদিকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল মাধবদী হওয়ায় নরসিংদীতে এর তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। এ জেলার প্রায় সব উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নরসিংদী শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার অনেক ভবন ফেটে ও হেলে পড়েছে।

সকাল ১০ টা ৩৮ মিনিটে কেঁপে উঠে গোটা জেলাসহ আশপাশের জেলা। ক্ষণিকের মধ্যেই মানুষ হুড়োহুড়ি করে সড়কে বেরিয়ে আসে। বড় কোনো ভবন ধসের ঘটনা না থাকলেও ছোট ছোট ফাটল দেখা দিয়েছে বহু ভবন ও বাড়ি-ঘরে। এ সময় নরসিংদী শহরের গাবতলি এলাকায় ছয়তলা নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে একতলা ভবনের ওপর পড়লে বাড়ির মালিক দেলোয়ার হোসেন, ছেলে ওমর মিয়া ও মেয়ে তাসফিয়া আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা-ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পথিমধ্যে ছেলে ওমর মিয়া এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়।

দেখা গেছে, গাবতলি জামেয়া কাসেমিয়া কামিল মাদরাসা মহিলা শাখার পিছনেই নির্মিত হচ্ছে ৬ তলা ভবন। এরই মধ্যে ৪ তলা ভবনের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর সেখানে লোকজন বসবাস করছে। বর্তমানে ভবনের বর্ধিতাংশ ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলার কাজ চলছে। ভূমিকম্পে ৬ষ্ঠ তলার একটি দেয়াল ভেঙে পার্শ্ববর্তী বাড়ির ওপর পড়ে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ওমর ফারুক জানান, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে দেলোয়ার হোসেন তার সন্তানদের নিয়ে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তারা বাড়ির গেট থেকে রাস্তায় বের হওয়ার সময় ৬ তলা ভবনের দেয়াল ভেঙে তাদের ওপর পড়ে। ওই সময় আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়।

অপরদিকে ভূমিকম্পে জেলার পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা গ্রামে মাটির ঘর ভেঙে কাজম আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে নাসির উদ্দিন ভূমিকম্পের সময় ফসলি জমি থেকে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে আসার সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে মারা যায়। পরে পরিবার লাশ নিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়।

এদিকে শিবপুরের আজকিতলায় ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে ফোরকান মিয়া আহত হয়। তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিসা দিয়ে ঢাকায় নেওয়ার পত্রে তিনি মারা যান।

এদিকে ভুমিকম্পে ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রেরর সাব স্টেশনের একটি ট্রান্সফরমায় আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অপর ট্রান্সফরমারগুলোর অধিকাংশ সংযোগ ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে পলাশ ফায়ার এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুস সহিদ জানান, আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক জানান, ভূমিকম্পে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঘেড়াশাল এলাকায় ঘোড়াশাল ডেইরি ফার্ম, ৬টি বাড়ি ও এস এ প্লাজা নামে একটি ৭ তলা বিশিষ্ট শপিংমলে ফাটল ধরে। এছাড়া ঘোড়াশাল বাজার এলাকার বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে দেয়ালের ইট পরে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গুলশানা কবির বলেন, ভূমিকম্পে আহত হয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক নারী পুরুষ চিকিৎসা নিয়েছে।  আর গুরুতর কয়েকজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম দুপুরে গাবতলি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, ভূমিকম্পে জেলায় শতাধিক আহত হওয়ার খবর পেয়েছি।  যেকোন দুযোগে জেলা পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। পুলিশ তাদের নিরাপত্তায় সচেষ্ট রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, ভূমিকম্পে জেলায় আমরা পাঁচজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা সারাদিন জেলায় আহতদের চিকিসার খোঁজখবর নিয়েছি। জেলা প্রশাসনের হটলাইন নাম্বার চালু করা হয়েছে, যেখানে আহত ও ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আর নিহতদের সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা হবে। আর আহতদেরও চিকিসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের সমাজ/এসআর

Side banner
Link copied!