পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল আলোচিত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে এবং এর আয়োজক থাকবে পাকিস্তান।
সোমবার (১৫ জুন) মধ্যরাতে চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। শেহবাজের ভাষ্য, দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে এবং এটি শুধু দুটি দেশের মধ্যে একটি চুক্তি নয়, বরং শান্তি ও সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার একটি কাঠামো নিয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
শেহবাজ শরিফ জানান, সংঘাত শুরুর পর থেকে পাকিস্তান শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। তার দাবি, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তী ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই সমঝোতার পথ তৈরি হয়।
জাতীয় পরিষদে তিনি বলেন, “তিন মাস ১৬ দিনের নিরলস প্রচেষ্টার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক কর্মকাণ্ডের অবিলম্বে ও স্থায়ী সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে লেবানন সংশ্লিষ্ট সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত।”
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জেনেভায় অনুষ্ঠেয় চুক্তি স্বাক্ষর আয়োজনের দায়িত্ব পাকিস্তান পালন করবে। এ উপলক্ষে তিনি দেশের জনগণ, জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অভিনন্দন জানান।
শেহবাজ শরিফ শান্তি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূমিকাও প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র এবং অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন।
তবে এ বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যৌথ নিশ্চিতকরণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শেহবাজ শরিফের দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা রয়েছে। সূত্র: দ্য ডন।
কালের সমাজ/ওজি

