ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছুরি দিয়ে হামলার চেষ্টা, অতপর...

কালের সমাজ ডেস্ক | অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১১:২৯ এএম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছুরি দিয়ে হামলার চেষ্টা, অতপর...

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছুরি দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি দলটির। এ ঘটনায় এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে হামলা বা ছুরি থাকার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে কোনো উল্লেখ নেই।

তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক দোলা সেনের অভিযোগপত্রে আটক নারীর নাম তন্নিষ্ঠা সাহা বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ওই নারী একজন সিভিক ভলান্টিয়ার এবং নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজি হিসেবে পরিচয় দেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে মমতা বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় ওই নারী তাঁকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সিভিক ভলান্টিয়াররা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করেন। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জনসমাগম সামলানো ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা পুলিশকে সহায়তা করেন।

তৃণমূলের মমতাপন্থী অংশের দাবি, ওই নারী মাদকাসক্ত। জেড-প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া একজন ব্যক্তির বাসভবনের কাছে কীভাবে তিনি পৌঁছালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দলটি। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।

দোলা সেনের অভিযোগপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তৃণমূলের মুখপাত্র সাকেত গোখলে। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, এক মাদকাসক্ত নারী মমতার বাসভবনে পৌঁছে ছুরি দিয়ে তাঁকে হামলার চেষ্টা করেন। তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ও জেড-প্লাস নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ ঘটনার পেছনে বিজেপির ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন গোখলে।

তবে কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ আটক নারীর পরিচয় ৩৮ বছর বয়সী অনসূয়া সাহা বলে জানায়। পুলিশ ঘটনাটিকে ‘বাগ্‌বিতণ্ডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আটক করেছেন বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় তৃণমূলের সদস্যরা অভিযোগ দায়ের করেছেন। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগেও হামলার অভিযোগ
গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তৃণমূলের নেতাদের ওপর একাধিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময়ে রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ে দলটির অভ্যন্তরীণ বিভক্তিও সামনে এসেছে।

গত আগস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, কলকাতার শ্যামবাজার এলাকায় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে বড় পাথর ছোড়া হয়েছিল। এতে তাঁর বুকে ব্যথা হয়, যা কয়েক দিন স্থায়ী ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে মে মাসে নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক দিন পর দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে পাথর ও ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া গত শনিবার বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সরদারের গাড়িতেও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। তাঁর দাবি, একদল লোক গাড়িটি ঘিরে ধরে তাঁকে হত্যার হুমকি দেয় এবং গাড়ির সামনের কাচ লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!