ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও হুথি হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ সৌদি?

কালের সমাজ ডেস্ক | অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১২:০২ পিএম বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও হুথি হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ সৌদি?

সৌদি আরব প্রতিবছর প্রতিরক্ষা খাতে কয়েক হাজার কোটি (বিলিয়ন বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD)-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নানা উন্নত অস্ত্র কেনার পরও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখতে পারছে না।

গত সপ্তাহে রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরেও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দেশটির অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

১. বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয়, তবু কেন নিরাপত্তার ঘাটতি?
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সৌদি আরব প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৮৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী দেশগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

দেশটির হাতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে কেনা বিভিন্ন উন্নত অস্ত্র।

কিন্তু সমস্যা হলো, সৌদি আরবকে একই সঙ্গে বিশাল ভূখণ্ডজুড়ে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করতে হচ্ছে।

পূর্ব দিক: ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি।

উত্তর দিক: ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন হামলা।

দক্ষিণ দিক: ইয়েমেন থেকে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা।

দেশটির শুধু রাজধানী বা তেল শোধনাগার রক্ষা করলেই চলবে না। বিমানবন্দর, তেল পাইপলাইন, জ্বালানি স্থাপনা, পানিশোধন ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি অবকাঠামোকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে।

এত বিপুলসংখ্যক লক্ষ্যবস্তুর জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা কঠিন। ফলে কোন স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নিয়ে সামরিক কর্তৃপক্ষকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

২. হুথিদের অস্ত্র ও যুদ্ধকৌশল আরও উন্নত হয়েছে

হুথিরা এখন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করছে। এর উদ্দেশ্য হলো, একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি তৈরি করে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলা।

এই কৌশল ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত আক্রমণপদ্ধতির সঙ্গে অনেকটা মিলে যায়।

হুথিদের হামলা প্রতিহত করা কেন কঠিন?

নিচু দিয়ে উড়ে আসা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র: এগুলো শনাক্ত করা ও অনুসরণ করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে।

দূরপাল্লার ড্রোন: তুলনামূলক কম খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা সম্ভব।

উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র: কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের নকশায় গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা থাকার দাবি করা হয়েছে।

বিভিন্ন দিক থেকে একযোগে হামলা: প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একসঙ্গে অনেক লক্ষ্য শনাক্ত ও মোকাবিলা করতে হয়।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো একক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শতভাগ প্রতিহত করতে পারে না। সৌদি আরব অনেক হামলা ঠেকাতে পারলেও কিছু অস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।

৩. ইরানের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইরানের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্লেষক।

২০১৮ সালে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেনে ইরানি উৎসের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, সামরিক সরঞ্জাম এবং চালকবিহীন আকাশযানের উপস্থিতি শনাক্ত করেছিলেন।

২০২৪ সালের জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে হুথিদের কাছে বাইরের উৎস থেকে সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং প্রশিক্ষণ সরবরাহের ব্যাপকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের হাটেম-২ ও প্যালেস্টাইন-২ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গে ইরানি অস্ত্রের উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য রয়েছে।

২০২৫ সালে ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হেনেছিল। ঘটনাটি দেখিয়েছিল, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

তবে হুথিদের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে শুধু ইরানের সহায়তা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট নয়। তাদের নিজস্ব যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা, অস্ত্র ব্যবহারের কৌশল এবং ইয়েমেনের ভৌগোলিক সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ।

৪. হুথিরা কি ইরানের নির্দেশ মেনে চলছে?
হুথিরা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অংশ হিসেবে পরিচিত। তবে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক স্বার্থও রয়েছে।

২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত ইয়েমেনে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো অর্থনৈতিক ও পরিবহনসংক্রান্ত বিধিনিষেধেরও মুখোমুখি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দেয়। এরপর সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আরামকোর একটি তেল শোধনাগার ও সৌদি বিমানঘাঁটি।

হুথিদের দাবির মধ্যে রয়েছে:
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা দিতে সৌদি আরবের বিমান হামলা বন্ধ করা।

সৌদি আরবের কাছ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ আদায় করা।

ইরান সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু হুথিরা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে তাদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি দাবি করেছেন।

এর অর্থ, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও হুথিদের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তেহরানের নিয়ন্ত্রণে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট ভিত্তি নেই।

৫. সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনজীবনে প্রভাব
সংঘাত তীব্র হওয়ার পরও সৌদি আরব স্বাভাবিক পরিস্থিতির ভাবমূর্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

CNN-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সতর্কবার্তা মোবাইল ফোনে পাঠানো বন্ধ করেছিল। রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর সতর্কবার্তা আবার চালু হয়েছে বলে কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে হামলায় এক ডজনের বেশি বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর পর হুথিদের সঙ্গে সমঝোতা করা সৌদি নেতৃত্বের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, পাল্টা বিমান হামলা আরও জোরদার করলে হুথিদের প্রতিশোধমূলক আক্রমণ বাড়তে পারে।

অর্থাৎ, সৌদি আরবের সামনে দুটি কঠিন বিকল্প রয়েছে: আরও সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার চেষ্টা করা, অথবা এমন কূটনৈতিক সমঝোতা খোঁজা যা দেশটির নিরাপত্তা ও মর্যাদা—দুটিকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

৬. সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা হুমকির মুখে
সৌদি আরবের লক্ষ্য শুধু তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি বজায় রাখা নয়। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় দেশটি পর্যটন, প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও আধুনিক অবকাঠামোর কেন্দ্র হয়ে উঠতে চায়।

কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এই পরিকল্পনার জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করছে।

জ্বালানি ও তেল পাইপলাইন
তেল শোধনাগার বা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হামলা উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

বিমানবন্দর ও পর্যটন
বিমানবন্দরে হামলা হলে বিমান চলাচল, পর্যটকদের আস্থা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তি অবকাঠামো
ডিজিটাল অর্থনীতি গড়তে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং নিরাপদ অবকাঠামো প্রয়োজন। এসব স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়লে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

পানি সরবরাহ
মরুভূমিপ্রধান সৌদি আরবে সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষের পানি সরবরাহেও বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি শিল্পের একটি বড় সম্মেলনেও করপোরেট অংশগ্রহণ কমেছে।

৭. শুধু বিমান হামলা চালিয়ে কি হুথিদের পরাজিত করা সম্ভব?
অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, কাজটি অত্যন্ত কঠিন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে সাত সপ্তাহের বিমান হামলা অভিযানে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল। হুথিরা শেষ পর্যন্ত লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা না করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালেও ইয়েমেনে তাদের ক্ষমতা অটুট থাকে। তারা একাধিক উন্নত মার্কিন রিপার ড্রোনও ভূপাতিত করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হুথিদের কিছু কমান্ডার ও প্রযুক্তিবিদ নিহত হলেও তাদের নেতৃত্বকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।

ইয়েমেনের পাহাড়ি ভূখণ্ড, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা এবং শক্তিশালী স্থানীয় অবস্থান হুথিদের বিরুদ্ধে স্থল অভিযানকেও কঠিন করে তুলেছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সামনে রেখে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালিয়ে তাদের পরাজিত করার সম্ভাবনাও কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ থেকে বোঝা যায়, ব্যয়বহুল বিমান হামলা ও উন্নত অস্ত্র দিয়ে সামরিক ক্ষতি করা সম্ভব হলেও কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা একসঙ্গে নির্মূল করা অনেক কঠিন।

৮. সৌদি আরব এখন কার সহায়তা চাইছে?
সৌদি আরব হুথিদের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

পাকিস্তান: প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবকে সহায়তা করতে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে।

মিশর: সৌদি আরবের অনুরোধ অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

তুরস্কসহ আঞ্চলিক অংশীদাররা: প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার আলোচনায় যুক্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ: আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এখানে বড় বাধা হলো অস্ত্রের মজুত। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের একটি প্রতিবেদনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের কারণে কৌশলগত অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া এবং নতুন অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহে শিল্পভিত্তিক সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, সৌদি আরবের অর্থ থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া নিশ্চিত নয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন হামলার বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি। ওয়াশিংটনের এই অনিশ্চয়তা সৌদি আরবের নিরাপত্তা হিসাবকে আরও জটিল করে তুলছে।

মূল বিশ্লেষণ: সৌদি আরবের সমস্যাটি আসলে কোথায়?
সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বাস্তবতা তুলে ধরে: প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা আর একটি দেশকে সম্পূর্ণভাবে হামলামুক্ত রাখা এক বিষয় নয়।

এর পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ রয়েছে:
১. বিশাল ভূখণ্ড ও অসংখ্য লক্ষ্যবস্তু: সব স্থাপনায় সমান মাত্রার প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন।

২. আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার ব্যয়ের পার্থক্য: তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যয়বহুল প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে।

৩. একযোগে বহু ধরনের হামলা: ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মিলিত আক্রমণ প্রতিরক্ষাকে অতিরিক্ত চাপে ফেলে।

৪. প্রতিপক্ষের অভিযোজনক্ষমতা: হুথিরা নতুন অস্ত্র, কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা খুঁজছে।

৫. রাজনৈতিক সমাধানের অভাব: সামরিক অভিযান প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে পারে, কিন্তু তার রাজনৈতিক ভিত্তি ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা শেষ নাও করতে পারে।

সৌদি আরবের জন্য সমাধান শুধু আরও অস্ত্র কেনা নয়। কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা, দ্রুত সতর্কবার্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিকল্প ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা এবং সংঘাত কমানোর কূটনৈতিক উদ্যোগ- সবকিছুর সমন্বয় দরকার। অন্যথায়, প্রতিরক্ষা খাতে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করেও দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকবে। সুত্র: সিএনএন

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!