ঢাকা সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ট্রাম্পকে ‘অজানা অস্ত্রের’ হুমকি ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের

কালের সমাজ ডেস্ক | মার্চ ১, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম ট্রাম্পকে ‘অজানা অস্ত্রের’ হুমকি ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক সামরিক হামলা চালায়। 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে “খারাপ কিছু” ঘটবে। ইরান চুক্তিতে সম্মত না হয়ে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য—ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস, সামরিক শক্তি দুর্বল করা এবং আমেরিকা ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

হামলার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানানো হয়। অভিযানে ইরানের সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, বিমানঘাঁটি ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালl-এ লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করেছে এবং এর লক্ষ্য আমেরিকান জনগণকে রক্ষা করা ও ইরানের “কঠোর শাসনের” হুমকি দূর করা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান “আমেরিকা ধ্বংস হোক” স্লোগান দিয়ে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে রক্তপাত ঘটিয়েছে।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-এর জেনারেল ইব্রাহিম জাব্বারি ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা ইতোমধ্যে পুরনো মজুতের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং শিগগিরই আরও শক্তিশালী অস্ত্র প্রদর্শন করবে।

হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এতে সউদী আরব, আবুধাবি, দুবাই, কাতার, বাহরাইন এবং কুয়েত-এ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আবুধাবিতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মিলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তাই সব পক্ষের সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে আরও প্রাণহানি ও অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হয়।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!