ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

৬২ লাখ প্রবীণকে বয়স্ক ভাতা দিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১০:৫০ এএম ৬২ লাখ প্রবীণকে বয়স্ক ভাতা দিচ্ছে সরকার

দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ৬২ লাখ নারী-পুরুষকে বয়স্ক ভাতা দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে ভাতার পরিমাণও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বুধবার (৭ অক্টোবর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির আওতা প্রতি বছর ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একসময় ৬০ লাখ প্রবীণকে এ ভাতা দেওয়া হতো। পরে উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখে উন্নীত করা হয়। চলতি বছর আরও এক লাখ প্রবীণকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে মোট ৬২ লাখ প্রবীণ এ সুবিধা পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, এখনো সব প্রবীণকে আওতার মধ্যে আনতে পারিনি। নারীদের ক্ষেত্রে ৬০ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়স হলে তাঁরা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য।”

তবে নির্ধারিত বয়সসীমা পূরণ করলেই সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বয়স্ক ভাতা পান না বলে জানান সচিব। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা ও যোগ্যতার বিষয় রয়েছে। আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচির আওতায় নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে বয়স্ক ভাতার জন্য কিছু আবেদন রয়েছে, যেগুলো বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ভবিষ্যতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হলে পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য ব্যক্তিকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, প্রবীণ জনগোষ্ঠী দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মূল্যবান সম্পদ। কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার অর্থ কোনোভাবেই সমাজে একজন মানুষের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বয়স্ক ভাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় প্রবীণদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে এ ভাতা কিছুটা সহায়তা করছে। পরিবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি প্রবীণদের আত্মমর্যাদা বজায় রাখতেও এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে।

প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ চলাচল ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আরও বাড়বে। তাই তাঁদের জন্য সমন্বিত নীতি ও সেবার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রবীণদের চলাচলের সুবিধার বিষয়ে সচিব বলেন, দেশের রেল ও মেট্রোরেলসহ কিছু গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। রেল, মেট্রোরেলসহ পাবলিক ট্রান্সপোর্টে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ২৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, “প্রবীণদের জন্য কেবল আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত, নিরাপদ আবাসন, বিনোদন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। প্রবীণবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে তাঁরা পরিবার ও সমাজে আরও সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।”

প্রবীণদের কল্যাণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোতে প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁদের দেখাশোনার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এই মূল্যবোধ ধরে রাখার পাশাপাশি আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রবীণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

অনেক প্রবীণ এখনও শারীরিকভাবে সক্ষম এবং বিভিন্নভাবে সমাজে অবদান রাখতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে একদিকে যেমন প্রবীণদের সক্রিয় জীবন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে নবীন প্রজন্মও তাঁদের কাছ থেকে উপকৃত হবে।

বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও লক্ষ্যভিত্তিক করা। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বয়স্ক ভাতার আওতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকারভোগীদের ভাতার পরিমাণও পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছর উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, “আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাজেট বৃদ্ধি পেলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য সব ব্যক্তিকে পর্যায়ক্রমে এ ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হবে।”

তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে শুধু ভাতা প্রদান নয়, স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহনে বিশেষ সুবিধা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং তাঁদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগসহ সমন্বিত প্রবীণবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সূত্র: বাসস
 

কালের সমাজ/ সা.এ.

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!