২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে সব আলো কেড়ে নিল ভিএআর। ১-১ গোলে সমতা থাকা অবস্থায় পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো প্রথমে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউলের অপরাধে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন।
কিন্তু ভিএআর-এর হস্তক্ষেপে নাটকীয়ভাবে সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। সুইস স্ট্রাইকার ব্রেল এম্বোলোর ডাইভিং বা ‘সিমুলেশন’ (অভিনয়) প্রমাণিত হওয়ায় পারদেসের কার্ড বাতিল করে উল্টো এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি।
চলতি বিশ্বকাপ থেকে চালু হওয়া ভিএআর-এর একটি নতুন নিয়মের কারণেই মূলত এই নাটকীয় ঘটনার অবতারণা ঘটে।
ম্যাচ চলাকালীন মাঠের রেফারি জোয়াও পিনহেইরো ধরে নিয়েছিলেন পারেদেস ফাউল করেছেন এবং তিনি আর্জেন্টাইন ৫ নম্বর জার্সিধারীকে হলুদ কার্ড দেখান।
এ নিয়ে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা তীব্র প্রতিবাদ জানালে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রধান রেফারিকে মাঠের পাশের মনিটর দেখার অনুরোধ জানান।
চলতি বিশ্বকাপেরই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভুলবশত কোনো খেলোয়াড়কে কার্ড দেওয়া হলে বা কার্ডের সিদ্ধান্ত ভুল হলে ভিএআর এখন থেকে হলুদ কার্ড বাতিলের জন্য রেফারিকে সহায়তা করতে পারে।
মনিটরে রিপ্লে দেখে রেফারি পিনহেইরো স্পষ্ট বুঝতে পারেন যে, পারেদেস সুইজারল্যান্ডের এম্বোলোকে স্পর্শই করেননি, বরং এম্বোলো ফাউলের অভিনয় করেছিলেন।
ভিএআর রিভিউ শেষে রেফারি মাঠে ফিরে পারেদেসের হলুদ কার্ডটি প্রত্যাহার করে নেন। একই সাথে রেফারিকে ধোঁকা দেওয়ার অপরাধে সুইস ফরোয়ার্ড ব্রেল এম্বোলোর দিকে হলুদ কার্ড বাড়িয়ে দেন। প্রথমার্ধেই একটি হলুদ কার্ড পেয়ে থাকায়, এটি ছিল ম্যাচে এম্বোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। ফলে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য হন এবং সুইজারল্যান্ড ১০ জনের দলে পরিণত হয়।
এর আগে চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ে বনাম যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে মিগুয়েল আলমিরন এবং টিম রিমের ক্ষেত্রেও ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটেছিল।
নিয়ম অনুযায়ী, খেলা পুনরায় শুরু হয়ে গেলেও রেফারি ভিএআর-এর সাহায্য নিয়ে ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংশোধন করতে পারেন। এছাড়া সহিংস আচরণ, থুতু ফেলা, কামড়ানো বা অত্যন্ত আপত্তিকর ও অপমানজনক আচরণের কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেওয়ার মতো অপরাধ ঘটলেও রেফারি খেলা শুরুর পর সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন।
এই ম্যাচে রেফারি বিবেচনা করেছেন যে, এম্বোলো অভিনয় করে রেফারিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং পারেদেসকে কার্ড খাওয়াতে চেয়েছিলেন, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কালের সমাজ/এসআর

