দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী কক্সবাজারে হঠাৎ পর্যটক খরা দেখা দিয়েছে। ভরা মৌসুমেও সমুদ্রসৈকত, হোটেল মোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আশানুরূপ পর্যটক না থাকায় হতাশা বিরাজ করছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মাঝে।
সাধারণত এ সময় কক্সবাজারের সৈকত ও আশপাশের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড় থাকলেও বর্তমানে সেখানে বিরাজ করছে অনেকটা নীরবতা। হাতে গোনা কয়েকজন পর্যটক থাকায় ব্যবসায় ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে কক্সবাজারে পর্যটক কমে গেছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবও পড়েছে পর্যটন খাতে। গত দুই মাস ধরে পর্যটক সংকট চলছে। এতে শত কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। তবে ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটক বাড়বে বলে আশা করছি।
কলাতলী সমুদ্রসৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাহাব বলেন, মে মাসের শুরু থেকেই পর্যটক অনেক কম। আমরা যারা ঋণ নিয়ে ছোট ব্যবসা করছি, তারা এখন চরম বিপদে পড়েছি।
শহরের তারকা মানের স্বপ্নীল সিন্ধু হোটেলের দায়িত্বে থাকা আদনান শরিফ বলেন, এই মুহূর্তে হোটেলে তেমন বুকিং নেই। অন্য বছর এ সময়ে কিছুটা চাপ থাকে, কিন্তু এবার একেবারেই কম। অলস সময় পার করছি।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার বলেন, “মৌসুমের মাঝামাঝি সময় হলেও এবার পর্যটক খরা চলছে। অতীতে সাপ্তাহিক ছুটিতে কক্সবাজারে এত বেশি পর্যটক আসত যে অনেকে হোটেলে রুম না পেয়ে সৈকত, গাড়ি কিংবা সড়কের পাশে রাত কাটাতেন। কিন্তু এবার শুক্রবার ছুটি থাকলেও মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। এতে আমরা চরম হতাশ।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জিসান বলেন, এখন কক্সবাজারে পর্যটক অনেক কম। তবে এই সুযোগে হোটেলগুলোতে ভালো ছাড় পাওয়া যাচ্ছে।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। পর্যটক হয়রানি হলে ব্যাবস্থা নিচ্ছে।
কালের সমাজ/কে.পি

