ঢাকা রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী | মে ১৬, ২০২৬, ১০:১২ পিএম রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান

বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। শনিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলে বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাদের বরণ করে নেন এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী এবং উত্তরা অঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির কুয়েত শাখার সাধারণ সম্পাদক ও তানোর উপজেলার মুন্ডুমালার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান, গোদাগাড়ী ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ এবং বাগমারা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এনামুল হকের নেতৃত্বে এক হাজারের বেশি নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগ দেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির রাজশাহী মহানগর শাখার আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদস্যসচিব আতিকুর রহমান। এতে আরও বক্তব্য দেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন।

মনিরা শারমিন বলেন, “ক্ষমতা নয়, জনতাই এনসিপির শক্তি। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ক্ষমতা ছেড়ে জনগণের মাঝে এসেছেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি সরকারি গাড়ি নেননি। এটাই প্রমাণ করে, আমরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করি না, বরং তা রক্ষা করি।”

নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীর মানুষের বড় ভূমিকা ছিল। রাজশাহীবাসী কখনো সন্ত্রাস ও দখলদার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয়নি। ভবিষ্যতেও তারা একই অবস্থানে থাকবে। এনসিপির নেতাকর্মীরাও কোনো দলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না।

পাটোয়ারী বলেন, “আমরা দেখছি, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে মিছিল করছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা করেন, তাহলে সেটি হবে বড় ধরনের রাজনৈতিক ভুল। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে সবার আগে তারেক রহমানই রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”

তিনি বলেন, “আপনি যদি কোনো ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক ভিন্ন অবস্থান নেন, তাহলে আমাদের অবস্থানও ভিন্ন হবে। আমরা একসঙ্গে রাজপথে আন্দোলন করেছি, কিন্তু সেখান থেকে সরে গেলে আমরা নিজেদের মতো করে আলাদা পথ বেছে নিতে বাধ্য হবো।”

সারজিস আলম বলেন, ‘‘আমরা বিশ্বাস করে তারেক রহমানকে সামনে রেখে বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দেয় নাই। বাংলদেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে। তারেক রহমান পিতা-মাতার উত্তসরি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটা সুযোগ পেয়েছেন। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি এই সুযোগটা কাজে লাগাবে; না লাগাবেন না।

তিনি বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের আমলে যেভাবে মিডিয়া দখল করা হতো। এখন আমরা যখন দেখে আগের মত মিডিয়া দখল করে গুরুত্বপূর্নস্থানে দলীয় লোকজন বসানো হয় তখন আমরা আগের যে বাংলাদেশ ছিল তার লক্ষণ দেখতে পায়।

তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হতো। বাংলাদেশে এখনো সেই চাঁদাবাজি হচ্ছে। থানায় থানায় টাকা নেওয়া হচ্ছে। জমি দখল হচ্ছে। যে কারণে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা এখনো সেই কাজই করছে। তাই আমরা বিএনপির রাজনীতি নিয়ে আমরা শঙ্কিত। এই রাজনীতি করে আগামীর বাংলাদেশে কেউ টিকে থাকতে পারবে না।’’

সারজিস বলেন, ‘‘বিএনপি বলে আমরা নাকি বিরোধীতা করার জন্য কথা বলি। কিন্তু আমরা বলে জনগণের কথাগুলো তাদের কান পর্যন্ত যাওয়া দরকার। জনগন আর দলবাজি-চাঁদাবাজি দেখতে চাই না। যারা ক্ষমতায় এসে এসব করতে থাকে তাদের জনগন চাই না।’’

তাহলে এমন একটি দলকে ক্ষমতায় চাই যারা এসব করতে চাই না। তাদের দলে আসতে হবে ভোট দিতে হবে। এ সময় তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগর এনসিপির সভাপতি মোবাশ্বের হোসেনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

 

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!