ঢাকা সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভূমি বিরোধে ৫০ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা, প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

জিকরুল হক, নীলফামারী | মে ১৮, ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম ভূমি বিরোধে ৫০ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা, প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভূমি বিরোধকে ঘিরে ৫০ জন নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে থানায় হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশী আতংকে সাতদিন ধরে নিদ্রাহীন রাত কাটছে ওইসব মানুষদের। এজন্য হয়রানিমূলক ওই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ঘটেছে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল গ্রামের কাছারী পাড়ায়।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর আয়োজনে রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৬টায় ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় গ্রামবাসীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহাবুল, আব্দুল জলিল, ডা. লতিবুর রহমান, আব্দুল জব্বার, মজিবর রহমান, মো. বাবু, আশরাফুল, রেনুকা, মজিয়া খাতুন, মুন্নী বেগম। ভিন্ন গ্রামের অধিবাসী মামুন সরকার বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪০ থেকে ৪২ জনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে গত ১২ মে সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়ের করে।

এজাহারনামীয় বিবাদীরা হলেন এজাবুল হক (৫৮), রমজান আলী (৪০), সাজু মিয়া (৩৭), লাজু মিয়া (৩৫), আশরাফুল (৪), এসরাফুল (৩৮), মো. জিসান (২২) ও মো. মুকুল মিয়া (৩২)।

সহজ সরল গ্রামবাসী পুলিশের গ্রেফতারী আতংকে বর্তমানে রাত্রীযাপন করছে। মামলার আদিঅন্ত জানাতে অনুষ্ঠিত হয় ওই সংবাদ সম্মেলন। মামলার শিকার প্রধান আসামীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বলেন গ্রামবাসী মো. মুকুল মিয়া।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মরহুম জাহান উদ্দিন সরকার জীবিত থাকাকালে তৃতীয় স্ত্রী মালেকা খাতুনকে দেনমোহর বাবদ আইসঢাল মৌজার ৯৮ খতিয়ানভুক্ত এস.এ ১০৬০ দাগে ১৯৭০ সালে সাফ কবলা দলিল মুলে ৭৪ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর দীর্ঘদিন মালেকা খাতুন ওই জমি ভোদখল করতে থাকেন ও বি.এস রেকর্ডে তার নাম প্রচারিত হয়। বাংলাদেশ জরিপে ওই জমির নতুন ১৫২ নম্বর খতিয়ানে ৮৩৫ নম্বর দাগ সৃষ্টি হয়। বি.এস রেকর্ডিয় মালিক মালেকা খাতুন মারা গেলে তার ভোগদখলীয় জমির উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হন একমাত্র পুত্র এজাবুল হক। নিরীহ এই এজাবুল হককে তার মায়ের মালিকানাধীন জমির প্রতি শ্যেন দৃষ্টি পড়ে ভিন্ন গ্রামের প্রভাবশালী ধনাঢ্য ব্যক্তি মামুন সরকারের। গত ১১ মে গ্রামবাসীদের সহযোগিতা নিয়ে মামলার শিকার এজাবুল হক মাতৃসূত্রে প্রাপ্ত ভূমির ইরি বোরো ধান কাটতে গেলে বাধার সৃষ্টি করে মামুন সরকার ও তার দলভুক্ত ব্যক্তিরা। ওইদিন মামলা হামলা, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় এজাবুলসহ তার পক্ষভুক্ত মানুষদের।

পরদিন ১২ মে মামুন সরকার বাদী হয়ে আইসঢাল কাছারীপাড়ার নিরীহ গ্রামবাসীদের মধ্যে আটজনের নাম মামলার এজাহারে লিখে এবং ৪০ থেকে ৪২ জন ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে মামলা দায়ের করে। থানায় দায়েরকৃত মামলাকে ঘিরে কাছারীপাড়া গ্রামের পুরুষরা নিদ্রাহীন রাতযাপন করছে সাতদিন ধরে।

মামুন সরকারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি তাদের ভয়ভীতি দেখাইনি, বরঞ্চ উল্টো ওরা আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার ধান কেটে নিয়ে গেছে।

মামলার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কথা হয় সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজার সঙ্গে। তিনি মামলার সত্যতা জানিয়ে বলেন, অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Link copied!