কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা দক্ষিণপাড়া দুলাল চন্দ্র শীল নামে এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা ও কৃষিজমির ধানের চারা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। ওই গ্রামের সাঈদুল হক ও তার ছেলে হৃদয়ের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী দুলাল চন্দ্র শীল ও তার পরিবার এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজোলার বাঙ্গড্ডা দক্ষিণপাড়া শীল বাড়ির বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র শীল পেশায় একজন নরসুন্দর (চুল কাটার কাজ করেন)। বাড়ির পাশেই রয়েছে তার ১১ শতক কৃষিজমি, যেখানে সম্প্রতি নতুন করে ধানের চারা রোপণ করা হয়। প্রতিবেশী সাইদুল হক ভান্ডারীর বাড়ির পাশে থাকা কয়েকটি কলাগাছ, সুপারি ও অন্যান্য গাছের পাশ দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইন গেছে। গত সোমবার বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তার স্বার্থে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা কিছু কলাগাছ কেটে ফেলেন। কিন্তু ওই গাছ কাটার দায় তার ও তার পরিবারের ওপর চাপিয়ে সাইদুল হক ভান্ডারী থানায় অভিযোগ করেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করেন।
এ ঘটনার জের ধরে সোমবার দুপুরে সাইদুল হক ভান্ডারী ও তার ছেলে হৃদয় দুলাল চন্দ্র শীল এবং তার ছেলে ছোটন চন্দ্র শীলের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার পরও বিরোধ থেমে থাকেনি। গতকাল মঙ্গলবার তাদের কৃষিজমিতে রোপণ করা ধানের চারা উপড়ে ফেলা হয় এবং হাঁস ছেড়ে দিয়ে অবশিষ্ট চারাও নষ্ট করা হয়। এতে তাদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী দুলাল চন্দ্র শীল বলেন, আমি একজন সংখ্যালঘু মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। যে গাছ পল্লী বিদ্যুতের লোকজন কেটেছে, তার দায় আমার ওপর চাপিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার জমির ধানের চারাও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইদুল হক বলেন, দুলাল আমার কলা গাছ গুলাে কেটে পেলেছে। আমি কৃষি কর্মকর্তা অফিসে অভিযোগ করলে বাড়িতে পুলিশ আছেন। হামলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে এড়িয়ে যান।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ-০৪ বাঙ্গড্ডা জোনাল অফিস কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তার স্বার্থে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা কিছু গাছের ঢাল পালা কেটেছে।
নাঙ্গলকোট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন,আপনার মাধ্যমে জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

