ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

এতিম কন্যার বিয়েতে পিতার ভূমিকায় জেলা প্রশাসক, পিরোজপুরে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ

জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুর | জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম এতিম কন্যার বিয়েতে পিতার ভূমিকায় জেলা প্রশাসক, পিরোজপুরে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ

সরকারি শিশু পরিবারে বেড়ে ওঠা এক এতিম কন্যার বিয়ের আয়োজন করে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগের নজির স্থাপন করেছে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কনের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জেলার ইতিহাসে সরকারি শিশু পরিবারের কোনো বাসিন্দার বিয়ে জেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগে সম্পন্ন হওয়ার এটি প্রথম ঘটনা।

রোববার (১২ জুলাই) রাতে সরকারি শিশু পরিবার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে কনে সুহানি আক্তারকে বরের হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এ সময় নবদম্পতির সুখী ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবনের জন্য দোয়া করা হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পিতামাতাকে হারানোর পর ২০১৫ সালে সুহানি আক্তার সরকারি শিশু পরিবারে আশ্রয় পান। সেখানেই লেখাপড়া ও বেড়ে ওঠা। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার জুসখোলা গ্রামের রাকিব শেখের সঙ্গে এক লাখ এক টাকা দেনমোহরে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ইকবাল করিম, সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক শাবানা খানম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, “সুহানি শুধু সরকারি শিশু পরিবারের সন্তান নয়, তিনি আমাদেরও সন্তান। আজ অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে তাকে নতুন জীবনের পথে এগিয়ে দিয়েছি। জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি শিশু পরিবারের প্রতিটি সন্তানের কল্যাণে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
বিয়েকে ঘিরে সরকারি শিশু পরিবারে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। সেখানে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোররা নিজেদের একজনের নতুন জীবনের সূচনা আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপন করে।

অতিথিরা বলেন, এতিম ও অভিভাবকহীন শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক পারিবারিক জীবনে ফিরিয়ে আনাও গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে তারা মনে করেন।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!