গত ১০ দিনের টানা বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির অনিয়ন্ত্রিত ও জোরপূর্বক বালি ফেলে জলাশয় ভরাট করাই এ পরিস্থিতির মূল কারণ। খাল, পুকুর ও বিল ভরাটের কারণে বর্ষা মৌসুম এলেই লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন।
একইভাবে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বৈরাগবাড়ি এলাকায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জলসিড়ি নামের একটি আবাসন কোম্পানির বালির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে রোগবালাই বাড়ছে, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে কষ্টে দিন পার করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
এদিকে সরকারি উদ্যোগ না থাকলেও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবু মোহাম্মদ মাসুম জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বৈরাগবাড়িসহ রূপগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। আবাসন কোম্পানির বালু ফেলার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং জলসিড়ি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বালি অপসারণের দাবি জানান। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বর্ষা এলেই বৈরাগবাড়িসহ রূপগঞ্জের বহু গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন। চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তারা। কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। আবাসন কোম্পানির বালু ফেলার কারণেই এ দুর্ভোগ। আমরা জনগণের পাশে আছি এবং তাদের সমস্যা সমাধানে যা প্রয়োজন, তা করব।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসন কোম্পানির লোকজন জলাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে কম দামে তাদের ঘরবাড়ি কিনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, আগে কখনো এ এলাকায় এমন বন্যা বা জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি হয়নি। খাল-বিল বালু দিয়ে ভরাট করার পর থেকেই এ সমস্যা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানান, বৈরাগবাড়ি আগে উঁচু এলাকা হওয়ায় কখনো পানি জমত না। কিন্তু চারপাশে বালু ফেলে ভরাট করায় এখন রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি অবস্থায় বাড়িঘরে বসবাস করতে হচ্ছে। তারা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
কালের সমাজ/কে.পি

