আওয়ামী আমলে সম্পূর্ন অবৈধ প্রক্রিয়ায় নির্মানাধীন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের ডাকবাংলো মার্কেটটি একটি কুচক্রী মহল নতুন করে বিক্রি করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুকনগর বাজার বনিক সমিতির নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নিকট জমা দেয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, চুকনগর বাজারটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাাঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী বানিজ্যিক কেন্দ্র । এই বাজারের উত্তর প্রান্তে ভদ্রা নদীর তীরে ১৯৪১ খৃষ্টাব্দে জেলা পরিষদের একটি ডাকবাংলো নির্মিত হয় এবং উক্ত ভবনের সামনে একটি মাঝারী ধরনের ফাঁকা মাঠ ছিল। যেখানে বাজারের ব্যবসায়ীরা আপদকালীন সময়ে আশ্রয় গ্রহণ করতো এবং বিভিন্ন ধরনের সভা সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হত। কালের বিবর্তনে ওই ভবনটি জরাজীর্ন হয়ে পড়লে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের দিকে ভবনটি সংস্কার/পুনঃ নির্মানের দাবি জানায় এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে খুলনা জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদের সিদ্ধান্তে পুরাতন ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। কিন্তু ওই ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার পর সাবেক ভূমি মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ঘনিষ্ঠ স্থানীয় কিছু ভূমিদস্যু কর্তৃক সেখানে ডাকবাংলো নির্মাণ না করে বিধি বহির্ভুতভাবে জেলা পরিষদ থেকে একসনা বন্দোবস্ত প্রাপ্ত হয়ে জেলা পরিষদ ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৭ এর ৭ অনুচ্ছেদের সকল বিধি লংঘন করে সেই মাঠে ছাদযুক্ত স্থায়ী পাকা দোকানঘর নির্মাণকাজ শুরু করে।
উল্লেখ্য, খুলনা জেলা পরিষদ ৭ মার্চ-২০২৪ তারিখে কার্যিনর্বাহী সভায় তৎকালীন ভূমি মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মাত্র ২জন ব্যক্তির পারিবারিক সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, কর্মচারী ও জেলা পরিষদের তৎকালীন সদস্যবৃন্দের নামে মোট ৮৮ টা বরাদ্দপত্রের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিলেও উক্ত ৫৬ শতক জমিতে ওই দুই ব্যক্তির আর্থিক বিনিয়োগে মোট ১২৬টি দোকানঘর নির্মিত হয়। প্রতিটি ঘর ১৫ লাখ থেকে শুরু করে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উচ্চমুল্যে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করার পাঁয়তারা শুরু করে যা ছিলো জনগণের সাথে সরাসরি প্রতারণার সামিল। এমতাবস্থায় জনসাধারনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দফতরে নির্মানাধীন ভবনটি উচ্ছেদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং দেশের গুরুত্বপুর্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলে এর উপর ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রচারের ফলে বিগত ১১ জুলাই-২০২৪ জেলা পরিষদের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা রশীদ বিগত ১০আগষ্ট-২০২৪ মধ্যে নিজ উদ্যোগে এবং নিজ খরচে উক্ত অবৈধ ভবন অপসারনের জন্যে কথিত বন্দোবস্ত প্রাপ্তদের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেন। যার স্মারক নং-জেপখু/আট-৩২৭/২০২৩-২৪/৩৯৪ (১৫০)। ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলে জেলা পরিষদে ততকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগের পর তদন্তে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে খুলনা জেলা পরিষদ থেকে অন্যত্র বদলী করা হয়। কিন্তু নির্মানাধীন সেই দোকানঘর গুলো এখনও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান,সম্প্রতি ফরহাদ হোসেন বাবু নামের এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে পুনরায় নির্মানাধীন সেই দোকানগুলোর অসমাপ্ত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু এবং ঘরগুলো বিক্রি করার পাঁয়তারা চলছে। উল্লেখ্য যে, এত বড় ঐতিহ্যবাহী বাজারে এই একটিমাত্র সরকারী খোলা মাঠ ছিল যেখানে ব্যবসায়ীরা আপদকালীন সময়ে একত্রিত হতেন, অবসর সময়ে খেলাধুলা, সভা/সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পেত। কিন্তু বিগত সরকারের দোসর ফরহাদ হোসেন বাবু সকল আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কিভাবে কিসের জোরে সেই জায়গাটুকু দখল করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়ঁতারা চালাচ্ছে তা বোধগম্য নয়। বাজারের ব্যবসায়ীদের বলেন, উক্ত জায়গা থেকে অবৈধভাবে নির্মিত ছাদযুক্ত স্থায়ী পাকা ভবন উচ্ছেদ সহ জায়গাটিকে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের দাবী অনুযায়ী পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের জন্যে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। স্মার্ট খুলনা নিউজ/আরএ
কালের সমাজ/কে.পি

