ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাজশাহী গোদাগাড়ী নদীর বুকে মিনি কক্সবাজার

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ২০, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম রাজশাহী গোদাগাড়ী নদীর বুকে মিনি কক্সবাজার

 রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার রেলওয়ে বাজার, মাদারপুর, হাটপাড়া, থানার মোড, এলাকার পদ্মা এলাকায় জেগে উঠা চরে নারী পুরুষ, ছাত্র-ছাত্রী, কিশোর-কিশোরী, বালক- বালিকাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। 

বিদ্যুৎবিহীন প্রচণ্ড গরম থেকে রেহাই পাবার ছুটি যাচ্ছে পদ্মার হিমেল বাতাসের পরশ নিতে। বর্ষায় পদ্মার ভরা যৌবন থাকার কথা থাকলেও মরণ বাধ ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মা যেন ক্ষত বীক্ষিত।  পানি নেই শুধু বালু চর, জেগে উঠা চরে মানুষ সবুজ ফসল ফলানোর চেষ্টা করছেন। চিনা, ভূট্টা, পটল, পাট, পটল, লালমী চাষ করেছেন।

পদ্মার পানি শুকিয়ে জেগে উঠেছে বিশাল চর। এই নতুন চরই এবার মানুষের বিনোদনের নতুন ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। পদ্মার পাড়জুড়ে খুব সকাল, বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ। চর পেরিয়ে নদীতে গিয়ে তারা নৌকায় চড়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়ান, নদীর বাতাসে প্রাণ জুড়ান, আর পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করছেন অনেকে। ফুটবল বিশ্বকাপের জোয়ার গেলেছে পদ্ম পরের জেগে উঠা চরে। শিশু, কিশোর, শিক্ষাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এ জেগে ওঠা চরে স্পেন, ব্রাজিল, আর্জেন্টািনা, মরক্কসহ বিভিন্ন দলের গেঞ্জি পড়ে দু,দলে বিভাক্ত হয়ে নেমে পড়ছেন। 

সেখানে দর্শকের কমতি নেই। বেশ আনন্দ উপভোগ করছেন। যে ভাবে উজান থেকে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে আর বেশী দিন থাকবে ডুবে যাবে এসব জেগে ওঠা চর। পদ্মার চারদিকে  পানিতে থৈ থৈ করার কথা, কিন্তু পানি নেই মরণ বাঁধ ফারাক্কার প্রভাবে। এখন যেদিকেই চোখ যায় নদীর বুকে জেগে উঠা চরে শুধু বালি আর বালি, রোদ্রের আলোতে চিক চিক করছে। এ যেন নদীর বুকে মিনি কক্সবাজার। অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত বা সাপ্তাহি ছুটির দিনগুলো পদ্মার পাড়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘুরতে আসছে হাজার হাজার পর্যটক। নদীর বিশাল বুকে নৌকা নিয়ে আনন্দ ভ্রমণে মানুষের ঢল। ভ্রমণ পিপাসুদের সারি সারি নৌকার বহরে মুখরিত নদীর বুক। সাপ্তাহিক ছুটি মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দে মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতি যেন হয়ে উঠেছে আনন্দমঞ্চ। কখনো মেঘে ঢাকা আকাশ, আবার কখনো ঝলমলে রোদ—তার মধ্যেই চলছে উৎসবের ঢেউ। কর্মব্যস্ততার মানুষগুলি সাপ্তাহিক ছুটিতে নারী-পুরুষ-শিশু সবাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে এসেছে পদ্মার প্রকৃতির সান্নিধ্যে। তীব্র গরমের মধ্যেও প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য পদ্মার মধ্যে জেগে উঠা চর, রেলওয়ে বাজার ঘাট, হাটপাড়া, গোদাগাড়ী মডেল থানার সামনের পদ্মাপাড় যেন এক আদর্শ গন্তব্য। ছুটির আনন্দে মেতে উঠেছে অসংখ্য মানুষ। বিশেষ করে রেলওয়ে বাজার ঘাটের সামনে পদ্মানদীতে জেগে উঠেছে বিশাল চর চারদিকে পানি থৈ থৈ করছে। শ শ মানুষ নৌকায় করে ওই চরে গিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মার এই বিশাল চরে সৃষ্টি হয়েছে এক অনন্য নৈসর্গিক দৃশ্য, যা সহজেই যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মন কেড়ে নেয়। অনেকেই এটিকে ‘মিনি কক্সবাজার’ বলে অভিহিত করছেন। নদীর বালুচর আর বয়ে চলা বাতাসের কারণে এই জায়গাটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং পদ্মার এই চর দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। গত বৃহস্পতিবার গোদাগাড়ী সদর থেকে রেলওয়ে বাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মার তীরে মানুষ আনন্দে মেতে উঠেন। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে দলবেঁধে আসা মানুষ আনন্দে। কেউ নদীতে নেমে গোসল করেন, কেউবা নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ান, আবার কেউ বালুর চরে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। আনন্দ উপভোগের মাঝে হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় খেলাধুলা শেষে ৪ কিশোর নদীতে গোসল নামে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অপর তিন শিশু— লিয়ন (১২), ফরহাদ (১৩) ও সিয়াম (১২)-কে স্থানীয়দের সহায়তায় জীবিত উদ্ধার করে। ফাহান (১৩) নামে এক কিশোর নিখোঁজ ছিল। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শুক্রবার সকালে নিখোঁজ ফাহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফাহান কুঠিপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে এবং কুঠিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কে কাকে শান্তনা দিবে তার যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।

বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় ঘুরতে আসা আলম শেখ বলেন, ‘পদ্মার এই নতুন চর আমাদের কাছে এক নতুন বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। নদীতে নেমে গোসল করলাম, নৌকা ভ্রমণ করলাম- সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি!’ চারা বিক্রেতা ও ঘটক আজিজুল হক বলেন, প্রতিদিনই আসরের নামাজ শেষ আমি গরম থেকে বাঁচতে পদ্মার পাড়ে ঘুরতে আসি কোন মেহমান আসলে তাদেরকেও নিয়ে আসি ‘শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এমন জায়গার দরকার ছিল। নদীর পাড়ের স্নিগ্ধ পরিবেশ, বাতাস, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সব মিলিয়ে এটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর। কক্সবাজারের মতো অনুভূতি হয় এখানে এসে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!