নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে চলে যাওয়া এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং ৩০০ ফুট সড়কে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, অটো ও সিএনজিচালিত যানবাহনের দৌরাত্ম্য।
মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গড়ে ওঠা অবৈধ অটো ও সিএনজি স্ট্যান্ডের কারণে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। পাশাপাশি উল্টো পথে বেপরোয়া গতিতে চলাচল, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এতে আহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জ দেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চল। এখানে শতাধিক শিল্প-কারখানায় কর্মরত রয়েছেন লাখো শ্রমিক। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ এই এলাকার সড়ক ব্যবহার করেন। এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং ৩০০ ফুট সড়ক দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হওয়ায় এসব সড়কে সারাক্ষণই যানবাহনের চাপ থাকে।কিন্তু মহাসড়কের ভুলতা, গোলাকান্দাইল, বরপা, রূপসী, তারাবো, বরাবো, যাত্রামুড়া, কুষাবো, কাঞ্চন, কালাদিসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড যান চলাচলে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব যানবাহন কোনো ধরনের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করেই মহাসড়কে চলাচল করছে। অনেক চালকের নেই বৈধ লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। তবুও তারা নির্বিঘ্নে মহাসড়কে চলাচল করছে এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে।বিশেষ করে অফিস শুরু ও ছুটির সময়, সেই সঙ্গে সন্ধ্যার পর মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানজট চরম আকার ধারণ করে। অনেক পণ্যবাহী ট্রাক ও দূরপাল্লার যানবাহনকে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত একই স্থানে আটকে থাকতে হয়।
এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন ব্যয় এবং সময়ের অপচয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত যাত্রী পরিবহনের আশায় অনেক অটো ও সিএনজি চালক উল্টো পথে গাড়ি চালান। ট্রাফিক সিগন্যাল ও সড়ক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য দ্রুতগতির যানবাহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা জানান, অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজির কারণে মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকে। যে পথ পাড়ি দিতে ৩০ মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।প্রাইভেটকার চালক লিটন মিয়া বলেন,ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজির অধিকাংশেরই বৈধ কাগজপত্র নেই। তারা কোনো নিয়ম মানে না, নিজেদের ইচ্ছামতো গাড়ি চালায়। এতে আমাদের নিরাপদে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সিলেটগামী বাসচালক আব্দুল মান্নান বলেন,ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ অটোরিকশা এবং সিএনজির বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে মহাসড়কে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।ট্রাকচালক রায়হান মিয়া বলেন,অটোরিকশা ও সিএনজি চালকদের কিছু বলতে গেলেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা সড়ক আইন সম্পর্কে সচেতন নয়। অনেক সময় ট্রাফিক বা হাইওয়ে পুলিশকে জানালেও তেমন কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায় না।এ বিষয়ে ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ওসি জসীমউদ্দীন বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন,অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলমান রয়েছে। যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। মহাসড়কে কোথাও অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে উচ্ছেদ করা হয়।রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জয় বাংলাবাজার পত্রিকাকে বলেন,মহাসড়কে যাতে অবৈধ অটো ও সিএনজি চলাচল করতে না পারে, সে জন্য ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে।
বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে এসব যানবাহনকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে কিছু যানবাহন ফাঁকফোকর দিয়ে উঠে পড়ে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে আমরা কাজ করছি।এদিকে সচেতন মহলের মতে, মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে অবৈধ অটোরিকশা ও সিএনজির চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কালের সমাজ/কে.পি

