নাসির হোসেনের হাত ধরে মাগুরার উর্বর মাটিতে ফলেছে পুষ্টিগুণে ভরপুর ও সুপার ফুডখ্যাত মেক্সিকান ফল ‘অ্যাভোকাডো’। এই ফলটি বর্তমানে দেশের বাজারে অত্যন্ত সমাদৃত এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নতুন এই বিদেশি ফল চাষ করে সফল ও লাভবান হয়ে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছেন মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামের সফল কৃষি উদ্যোক্তা মো. নাসির হোসেন (৪০)।
নাসির হোসেন জানান, ২০২২ সালের শেষের দিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের একটি নার্সারি থেকে প্রতিটি চারা এক হাজার ২০০ টাকা দরে মোট ১২টি অ্যাভোকাডোর চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন। নিবিড় পরিচর্যা ও উপযুক্ত যত্নের পর দুই বছরের মাথায় ২০২৫ সাল থেকে গাছে ফল আসতে শুরু করে। চলতি বছরে ১২টি গাছেই বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিটি পরিপক্ক অ্যাভোকাডোর ওজন প্রায় ৫০০ থেকে ৯০০ গ্রাম। বর্তমানে প্রতি কেজি অ্যাভোকাডো বাগান থেকেই ৫০০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
ইতোমধ্যে নাসির হোসেন বাগান থেকে ২৪০ কেজি ফল বিক্রি করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন। গাছের অবশিষ্ট ফল থেকে আরও প্রায় ৪০ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি। অ্যাভোকাডোর এই বিপুল সম্ভাবনা দেখে তিনি ইতিমধ্যেই ৬ বিঘা জমিতে আরও ১৫০টি চারা রোপণ করে বাগানের পরিধি প্রসারিত করেছেন। আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে প্রজেক্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
পুষ্টিবিদদের মতে, ‘সুপার ফুড’ হিসেবে খ্যাত অ্যাভোকাডো প্রচুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট নেই এবং শর্করার পরিমাণ খুবই কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সালাদ, স্যান্ডউইচ কিংবা কাঁচা অবস্থায় খাওয়া যায়। এ ফলটির চাহিদা দেশের বাজারে দ্রুত বাড়ছে।
নাসির হোসেন কেবল অ্যাভোকাডোতেই সীমাবদ্ধ নন; তাঁর ‘নাসির এগ্রো ফার্ম’-এর আওতায় প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে রয়েছে ড্রাগন, মাল্টা, কমলা, কুল, আম, ঁেপপে ও পেয়ারা সুবিশাল বাগান। যা মাগুরা জেলার সবচেয়ে বড় ফল চাষ প্রকল্প। তাঁর এই বহুমুখী কৃষি উদ্যোগে স্থানীয় ৩৫ থেকে ৪০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এখান থেকে উৎপাদিত ফল স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তা নাসির হোসেন বলেন, “অ্যাভোকাডো চাষে খুব বেশি পরিচর্যা বা খাটুনির প্রয়োজন হয় না। শুধু শুষ্ক মৌসুমে কয়েকবার সেচ এবং নিয়ম মেনে কয়েকবার ছত্রাক ও কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। এটি অত্যন্ত লাভজনক।”
এ বিষয়ে মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নূর-এ-নবী বলেন, “অ্যাভোকাডো একটি অতি উচ্চমূল্যের ও পুষ্টিকর বিদেশি ফল। মাগুরার মাটিতে এর সফল চাষ প্রমাণ করে এ অঞ্চলের কৃষি কতটা সম্ভাবনাময়। উদ্যোক্তা নাসির হোসেনের এই সফলতা অন্যান্য কৃষকদেরও আধুনিক ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষে উৎসাহিত করবে।
কালের সমাজ/কে.পি

