রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক পোলে (খুঁটি) হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচটি পোলের আওতাধীন বিদ্যুৎ প্রত্যাশীদের সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার গ্রাহকরা। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল রাজশাহী নগরীর মোন্নাফের মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
তবে বিদ্যুৎ সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) কর্মীরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানায়- কাজ চলমান রয়েছে। গ্রাহকরা বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে। তবে বিদ্যুতের পোলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ডিম ও ইন্টারনেটের তারে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা না গেলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি- বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে- নগরজুড়ে পোলে পোলে এমন বিদ্যুতের তারের জটলা চোখে পড়ে।
জানা গেছে- সকালে বিদ্যুতের পোলের সঙ্গে থাকা তারগুলো আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে এক তার থেকে অন্য তারে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে পাঁচ থেকে ছয়টি পোল পর্যন্ত তারে আগুন জ¦লে যায়। আর তারগুলো আগুনে পুড়ে খন্ড খন্ড হয়ে মাটিতে পরতে থাকে। এসময় স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। স্থানীয়রা ছাড়াও ঘটনাস্থলে পানি দিয়ে আগুন নিভানোর প্রচেষ্টা করতে দেথা যায় রাজশাহী নগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমনকে। এসময় তিনি ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে আগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি জানায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেন। এসময় তিনি বৈদ্যুতিক পোলগুলো থেকে ডিসের তার, টেলিফোনের তার, ইন্টারনেটের তারের ঝোপ (জটলা) অপসারণ করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) তালাইমারী অভিযোগ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে- এই ঘটনায় মোন্নাফের মোড়ের দক্ষিণে পাঁচটি পোলে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। একটি টান্সমিটার পর্যন্ত। সেখানে নেসকোর কর্মীরা কাজ করছেন। আশা করা হচ্ছে দ্রুতই সমস্যা সমাধান হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি ডিরেক্টর ফরহাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানো হয়েছে। তারা ক্ষতির পরিমান দেখিয়েছেন পাঁচ লাখ টাকার ও উদ্ধার দুই লাখ টাকার।
নগরীতে বিদ্যুতের খুঁটিতে ডিম ও ইন্টারনেট তারে জটলা নিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এ.বি.এম. আসাদুজ্জামান সুইট-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে নেসকোর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দাস বলেন- মুন্নাফের মোড়ে বিদ্যুতের তারে অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটেছে। এই এলাকার কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবারহ নেই। বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, সময় লাগবে।
কালের সমাজ/কে.পি

