ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার-৩

ঈদগাঁওয়ে ফায়ার স্টেশন—উন্নয়ন দাবিতে সরব এমপি কাজল

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম ঈদগাঁওয়ে ফায়ার স্টেশন—উন্নয়ন দাবিতে সরব এমপি কাজল

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে যোগাযোগব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন, গ্রামীণ অবকাঠামো ও জননিরাপত্তাকে ঘিরে একাধিক উন্নয়ন উদ্যোগ সামনে এসেছে। নির্মাণাধীন সেতু দ্রুত শেষ করার তাগিদ, খাল পুনঃখনন, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ এবং নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ—সব মিলিয়ে উন্নয়ন প্রশ্নে সরব রয়েছেন সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।

তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বাস্তবায়নের চিত্রও সামনে এসেছে। কোথাও কাজ এগোচ্ছে, কোথাও প্রক্রিয়া চলছে, আবার কোনো কোনো প্রকল্প এখনো শেষ হয়নি। ফলে কক্সবাজার-৩ আসনের উন্নয়নের চিত্র বুঝতে হলে শুধু ঘোষণা বা বরাদ্দ নয়, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা, দ্রুত শেষ করার তাগিদ

যোগাযোগ অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সংযোগ সেতু। এলজিইডির প্রকল্পের আওতায় জোয়ারিখালের ওপর ৩৯২ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণে বরাদ্দ রয়েছে ৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। দুই দফা সময় বাড়ানোর পরও প্রকল্পটি পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গত ৩ মে নির্মাণাধীন সেতুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

সেতুটি সম্পন্ন হলে ভারুয়াখালী ও খুরুশকুলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। বর্তমানে সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় অনেক মানুষকে নৌপথে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে।

পুনঃখননে ফিরছে খালের প্রবাহ

উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে পানি নিষ্কাশন ও কৃষি। সদর উপজেলার ঝিলংজা ও পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী শাখা খালের দুই কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন এমপি কাজল। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালটি দখল ও ভরাটের কারণে নাব্যতা হারিয়েছিল।

এর পাশাপাশি ঐতিহাসিক পাতলী খালের বৃহত্তর পুনঃখনন কার্যক্রমও সামনে এসেছে। ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রকৌশলীদের তথ্য অনুযায়ী, পুনঃখননের ফলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈদগাঁওয়ের পোকখালী রাবার ড্যামের আওতাধীন জিয়া খালসহ অন্যান্য খাল পুনঃখননের উদ্যোগও পানি নিষ্কাশন, কৃষি সেচ ও জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এসব সুফল ধরে রাখতে খাল দখল ও পুনরায় ভরাট ঠেকানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ঈদগাঁওয়ে ফায়ার স্টেশনের উদ্যোগ

নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলায় দীর্ঘদিনের দাবির একটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৭ এপ্রিল খোদাইবাড়ি, নার্সারি ও মেহেরঘোনা এলাকার তিনটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন এমপি কাজল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ফায়ার স্টেশন স্থাপনের জন্য জমি নির্ধারণসহ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্টেশনটি এখনো নির্মিত হয়নি। ফলে ঈদগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের এ দাবির বাস্তবায়ন কত দ্রুত দৃশ্যমান হয়, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

প্রায় ১২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

জুন-জুলাইয়ে প্রকাশিত স্থানীয় প্রতিবেদনে কক্সবাজার-৩ আসনে প্রায় ১২ কোটি টাকার বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন থাকার কথা জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির আওতায় ১১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দের মাধ্যমে সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব কর্মসূচির আওতায় ১২৩টি মসজিদ, ৫৮টি কবরস্থান, ৩৯টি মন্দির, ২২টি বৌদ্ধবিহার, ৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৯টি সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং ৪৩টি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার বা উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

তবে এসব বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রকল্পের পৃথক সরকারি নথি, কাজের অগ্রগতি ও সম্পন্ন হওয়ার তথ্য যাচাই করা জরুরি। বরাদ্দ বা অনুমোদনকে তাই সরাসরি সম্পন্ন উন্নয়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সংসদে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের দাবি

স্থানীয় প্রকল্পের পাশাপাশি কক্সবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়েও সংসদে বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেছেন এমপি কাজল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর দাবির মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, পর্যটন খাতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, লবণ বোর্ড গঠন এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পর্যায়ক্রমে ছয় লেনে উন্নীত করার বিষয়।

এ ছাড়া নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলায় প্রশাসনিক ভবন, আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার দাবিও রয়েছে। এগুলো বর্তমানে দাবি ও প্রস্তাবের পর্যায়ে; বাস্তবায়িত প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এখন নজর বাস্তবায়নে

কক্সবাজার-৩ আসনে উন্নয়নের পরিধি এখন শুধু নতুন প্রকল্পের দাবি বা বরাদ্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চলমান প্রকল্পগুলো কত দ্রুত শেষ হচ্ছে, কাজের মান কেমন হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ বাস্তবে কতটা সুফল পাচ্ছেন—সেটিই হয়ে উঠছে বড় বিষয়।

ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সেতুর দীর্ঘসূত্রতার অবসান, ঈদগাঁওয়ে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করা, পুনঃখনন করা খালের পানি প্রবাহ ধরে রাখা এবং গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামোর টেকসই উন্নয়ন—এসব ক্ষেত্রের অগ্রগতিই আগামী দিনে এলাকার মানুষের কাছে উন্নয়নের বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে।

কক্সবাজার-৩ আসনে উন্নয়ন নিয়ে এমপি লুৎফুর রহমান কাজলের তৎপরতা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্যোগ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। এখন সেই উদ্যোগ, দাবি ও বরাদ্দ কতটা দৃশ্যমান ও টেকসই উন্নয়নে রূপ নেয় সেদিকেই নজর স্থানীয় মানুষের।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!