ঢাকের কাঠি, ধূপের ধোঁয়া আর শাঁখের ধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। দেবী দুর্গার আগমনী আনন্দে মেতে উঠেছে চারপাশ। শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ও মাহাত্ম্যপূর্ণ দিন—মহা অষ্টমী। সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ঢল নেমেছে। অঞ্জলি প্রদান, কুমারী পূজা আর সন্ধিপূজার ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আরাধ্য দেবীর চরণে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
হিন্দু পুরাণ মতে, মহা অষ্টমী পূজা হলো শক্তি ও ভক্তির অপূর্ব মিলন তিথি। এদিন মহিষাসুরকে বধ করতে দেবী দুর্গার চণ্ডীরূপে আবির্ভূত হওয়ার ক্ষণকে স্মরণ করা হয়। অষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ ‘কুমারী পূজা’, যেখানে দেবী দুর্গার মাতৃরূপকে এক কম বয়সী কন্যার মাঝে আবাহন করে পূজা করা হয়। সব নারীর মধ্যেই যে দেবীর রূপ বিরাজমান—এই চেতনাই ফুটে ওঠে কুমারী পূজায়। এ ছাড়া দিনটির অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কৃত্য হলো ‘সন্ধিপূজা’। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট—এই মোট ৪৮ মিনিটের সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডারূপে পূজা পান, যা উৎসবের সবচেয়ে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।
উৎসবের আবহ ও ধর্মীয় রীতি নিয়ে কথা হয় নোয়াখালী পূজা উদযাপন কমিটির এক নেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, “মহা অষ্টমী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত আবেগ ও ভক্তির এক দিন। দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে আমরা দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করি। আবহমান বাংলার এ সম্প্রীতি আমাদের প্রধান শক্তি। এবার মণ্ডপে মণ্ডপে যে ধর্মীয় উদ্দীপনা ও ভক্তদের ঢল দেখা যাচ্ছে, তা সত্যি আনন্দে হৃদয় ভরিয়ে দেয়।”
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করে পূজা উদযাপন কমিটির আরেকজন প্রতিনিধি জানান, “জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ভক্তরা কোনো ধরনের ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে মণ্ডপে আসতে পারছেন। নিয়মিত পুলিশ টহল, সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তাতে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ যেন ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার—এই চিরায়ত রূপের প্রতিফলন।”
একজন নারী ভক্ত তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “অষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়ার জন্য সারা বছর ধরে অপেক্ষায় থাকি। মণ্ডপের শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দেখে খুব স্বস্তি লাগছে। আমরা সপরিবারে মা দুর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে বিশ্বশান্তি ও দেশের সব মানুষের কল্যাণ কামনা করেছি।”
উৎসবের মহা অষ্টমীর পুণ্যতিথিতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা। ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর কৃপায় কাটবে সব আঁধার, সমাজে ঘুচবে হিংসা-বিদ্বেষ এবং বজায় থাকবে চিরন্তন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
কালের সমাজ/কে.পি

