সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো,যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে মাগুরায় ১৭ কিলোমিটার সড়কে ডিবিএসটি (DBST) ও ডিবিএস (DBS) ওয়্যারিং কোর্সের কাজ চলছে। প্রায় ১৩ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যের এ কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে সড়কের এক পাশের কাজ শেষ হলেও ওই অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল না করে নির্মাণাধীন অপর পাশ দিয়ে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়,মহাসড়কের নির্ধারিত অংশে সড়কের উপরিভাগ উন্নয়নের জন্য এ কাজ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সড়কের এক পাশের কাজ শেষ হয়েছে।
তবে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে নির্মাণাধীন পাশটি বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় ওই অংশে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে এক পাশের কাজ শেষ হলেও সড়কের পুরো অংশ যানবাহন চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় চালকদের ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। এ অবস্থায় নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে মহাসড়কের উভয় পাশ যান চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে ঢাকার মনিপুরীপাড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। বৃষ্টির কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও আবহাওয়া অনুকূলে এলে দ্রুত কাজ শুরু করে অবশিষ্ট অংশের নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সময়সীমা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা আগামী নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি ফরিদ খান ও সোহেল রানা বলেন,বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন,মহাসড়কে ডিবিএসটি ও ডিবিএস ওয়্যারিং কোর্সের কাজ সম্পন্ন হলে সড়কের উপরিভাগের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব বাড়বে। এ ধরনের কাজ সড়কের উপরিভাগের পিচ্ছিলতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং যানবাহনের চাকার সঙ্গে সড়কের ঘর্ষণক্ষমতা উন্নত করতে পারে। এতে চালকদের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।তিনি আরও বলেন,নতুন সারফেসের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের শুরুতে কিছুটা ঝাঁকুনি অনুভূত হতে পারে।
তবে যান চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে সড়কের উপরিভাগ স্থিতিশীল হয়ে উঠবে। সঠিক মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা হলে সড়কের স্থায়িত্ব বাড়বে,বারবার মেরামতের প্রয়োজন কমবে এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধে সহায়তা করবে।সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদ বলেন,বৃষ্টির কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন,মহাসড়কের উন্নত উপরিভাগ যান চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর পাশাপাশি সড়কের স্থায়িত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে নির্মাণকাজ চলাকালে যানবাহন চলাচল নিরাপদ রাখা,প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। পাশাপাশি চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা ও ট্রাফিক আইন অনুসরণ করতে হবে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে মাগুরা মহাসড়কে যান চলাচলের মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াত আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে আশা করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
কালের সমাজ/কে.পি

