চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সারোয়ার আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় ফটিকছড়ি উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক হলে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল ইসলাম রিপন এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ সংসদ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সাংবাদিকতা, এলাকার বিদ্যমান সমস্যা, জনদুর্ভোগ, উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়।
সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, অধিকার ও বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরাও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অন্যদিকে, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের কথা শোনা, সমস্যার বাস্তব চিত্র অনুধাবন করা এবং সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। এ দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও গঠনমূলক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে জনস্বার্থ রক্ষা এবং এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পথ আরও সুগম হয়।
ফটিকছড়ির সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন যেমন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণে ভূমিকা রাখে, তেমনি জনপ্রতিনিধিদের ইতিবাচক সাড়া ও কার্যকর পদক্ষেপ জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়।
সাংবাদিকের কলম হোক জনমানুষের কথা বলার শক্তিশালী মাধ্যম, আর জনপ্রতিনিধির উদ্যোগ হোক মানুষের সমস্যা সমাধানের কার্যকর হাতিয়ার—এই সমন্বয়ই পারে একটি সম্ভাবনাময় ফটিকছড়ি গড়ে তুলতে। সমালোচনাকে প্রতিপক্ষতা হিসেবে নয়, বরং জনস্বার্থে আত্মসমালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে তথ্যভিত্তিকভাবে মূল্যায়ন করা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিচায়ক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দৈনিক চট্টগ্রাম লাইভ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এস এম ওসমানগনি, অর্থ সম্পাদক মাওলানা মিনহাজ উদ্দীন সিদ্দিকী, সাংবাদিক নাজিম উদ্দীন, কার্যনির্বাহী সদস্য সাংবাদিক মো. জামাল উদ্দীন, সাংবাদিক মোহাম্মদ ইউসুফসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাৎকে সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধিত্ব এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে ফটিকছড়ির মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসবে।
জনগণের স্বার্থই হোক সব উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু—সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাক উন্নত, সমৃদ্ধ ও জনবান্ধব ফটিকছড়ি।
কালের সমাপজ/কে.পি

