ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

উঁচু জমিতে তরমুজ চাষে সাফল্য, সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, | অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম উঁচু জমিতে তরমুজ চাষে সাফল্য, সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা

পাহাড়ঘেঁষা উঁচু জমিতে হাইব্রিড তরমুজ চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন হাটহাজারীর তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা কেএম সাজ্জাদ। আধুনিক চাষপদ্ধতি ও মালচিং প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন তরমুজের খেত। সবুজ লতাপাতার মধ্যে বেড়ে ওঠা আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের তরমুজ দেখে আশাবাদী হয়ে উঠছেন স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষকেরা।

হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চারিয়া এলাকায় আর্মি ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জের দক্ষিণ পাশে সাজ্জাদের এ তরমুজের খেত। পাহাড়ি এলাকার জমিতে প্রচলিত ফসলের বাইরে তরমুজ চাষের এ উদ্যোগ স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। খেত দেখতে এসে অনেকে চাষপদ্ধতি ও ফলন সম্পর্কে জানতে চাইছেন।

কৃষি উদ্যোক্তা কেএম সাজ্জাদ জানান, প্রচলিত চাষাবাদের বাইরে নতুন কিছু করার চিন্তা থেকেই তিনি তরমুজ চাষে আগ্রহী হন। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ ও পরিচর্যার প্রতিটি ধাপে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছেন। জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করায় আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা সহজ হয়েছে। এর ফলে গাছের বৃদ্ধি ও ফলের বিকাশ ভালো হয়েছে বলে তিনি জানান।

সাজ্জাদ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাহাড়ি ও উঁচু জমিতেও বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিকে শুধু প্রচলিত পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন প্রযুক্তি ও পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটাতে হবে। তরুণেরা উদ্যোগী হলে কৃষিও হতে পারে আত্মকর্মসংস্থান ও আয়ের একটি ভালো মাধ্যম। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

হাটহাজারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার করে উঁচু জমিতে বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। তরমুজ চাষে মালচিং পদ্ধতি মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ ও আগাছা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে জমির উপযোগিতা যাচাই, সঠিক জাত নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, প্রয়োজনীয় সেচ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। সফল উদ্যোগগুলো অন্য কৃষকদেরও নতুন ফসল চাষে উৎসাহিত করতে পারে।

ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, চট্টগ্রামের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছাঃ আমিনা খাতুন বলেন, সঠিক জাত নির্বাচন ও উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তুলনামূলক কম জমিতেও উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন সম্ভব। তরমুজ চাষে জমির ধরন, সার ব্যবস্থাপনা, সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মালচিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, হাটহাজারীর পাহাড়ঘেঁষা ও উঁচু জমিতে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি তরমুজসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি চাষের সুযোগ রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উৎপাদন খরচ, বাজারদর, পরিবহন এবং বিক্রির নিশ্চয়তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

পশ্চিম চারিয়ায় সাজ্জাদের তরমুজ চাষের উদ্যোগ দেখিয়েছে, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা যায়। কৃষি বিভাগের কারিগরি পরামর্শ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা পাওয়া গেলে এ ধরনের উদ্যোগ হাটহাজারীর অন্যান্য কৃষকের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!