শরৎ ও হেমন্তের রূপ-বৈচিত্র্যে ‘শিউলি’ ফুল এক অনন্য ও নস্টালজিক অনুভূতির নাম। প্রকৃতির পালাবদলে শরৎ বিদায় নিলেও হেমন্তের স্নিগ্ধ রূপেও শিউলি তার সুবাস ছড়িয়ে যায় আপন মহিমায়। রাতের আঁধারে ফুটে থাকা এই ফুল ভোরের আলো ফোটার আগেই শিশিরভেজা ঘাস বা মাটির ওপর ঝরে পড়ে। এই দৃশ্য যেন প্রকৃতি নিজ হাতে জমিনে এঁকে দেয় এক অপূর্ব শিউলি ফুলের আলপনা।
উদ্ভিদবিজ্ঞান অনুযায়ী, শিউলির বৈজ্ঞানিক নাম : ঘুপঃধহঃযবং ধৎনড়ৎ-ঃৎরংঃরং। এটি দক্ষিণ এশিয়ার থাইল্যান্ড থেকে শুরু করে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে দেখা যায়। বাংলাদেশে গ্রামীণ জনপথ থেকে শুরু করে শহরের উদ্যান বা বাড়ির আঙিনায় শিউলি গাছের উপস্থিতি বেশ সহজলভ্য। শেফালি নামেও পরিচিত এই সুগন্ধি ফুলটি যুগ যুগ ধরে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
ফুলটির গঠন বেশ আকর্ষণীয়; সাধারণত পাঁচ থেকে সাতটি সাদা পাপড়ির মাঝে লালচে-কমলা রঙের নান্দনিক টিউবের মতো বৃন্ত থাকে। রাতের স্নিগ্ধতায় প্রস্ফুটিত হয়ে মিষ্টি সুবাস ছড়ানোই এর স্বভাব। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এরা তাদের দীপ্তি হারায়। গাছ থেকে ঝরে পড়ার এই রীতিনীতি অনেকের মনে এক ধরনের পঙক্তিমাখা বিষন্নতা বা নস্টালজিয়ার জন্ম দেয়। তবুও শিশির ভেজা সকালে শিউলিতলায় পা রাখলে মন জুড়িয়ে যায়। প্রেম, পবিত্রতা এবং ত্যাগের প্রতীকী আখ্যান হিসেবেও শিউলি বেশ পরিচিত।
মহাকবি কালিদাস থেকে শুরু করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দিকপাল সাহিত্যিকরা তাঁদের সৃষ্টিতে শিউলি ফুলকে অমর করে রেখেছেন। আধুনিক ব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনেও শিউলির এই রূপ মানুষের মনে গ্রামীণ শেকড় ও প্রকৃতির টানে এক মোহনীয় আবহ তৈরি করে।
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের শ্যামনগর গ্রামের মো. মাহফুজুর রহমান আরমানের বাড়ির আঙিণায় ফোটে শিউলি ফুল। প্রতিদিন ভোরে তার ছেলে আকিফুর রহমান (১১) এবং মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (৭) মাটিতে ঝরে পড়া শিউলি ফুল কুড়িয়ে বেজায় আনন্দ লাভ করে। স্থানীয় আরো অনেক ছেলে-মেয়ে এখানে ফুল কুড়াতে আসে।
কালের সমাজ/কে.পি

