কয়রায় গেলে প্রথমেই যে জিনিসগুলো দেখতে পাবেন তা হল বাঁধ ভাঙা , খাবার পানি,বেকারত্ব ।নদীর জোয়ার এবং ঘূর্ণিঝড়ের আক্রমণ এখানকার জীবনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে দুর্ভোগের যেন শেষ নেই এসব মানুষের। আইলা থেকে আম্ফান সব দুর্যোগেই ভেঙেছে উপকূল রক্ষার বেড়িবাঁধ। ভেসে গেছে মাছের ঘের, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। নিরুপায় হয়ে বসতভিটা ছাড়ছেন অনেক উপকূলের বাসিন্দা।২০০৯ সালে আইলার মতো দুর্যোগ মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়েছে, প্রতিবার ঘরবাড়ি ভেসে গেলে, আপনাকে নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।
৩ নং কয়রার ৪ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন বড় দুর্যোগ আসলে বাঁধ ভেঙ্গে সব নোনা হয়ে যায়।পর্যাপ্ত নেই ।এখানকার মানুষ চায় কাজ করে খেতে ,এ জন্য তাদের দরকার টেকসই বাঁধ , মানুষকে থাকতে হয় ক্রমাগত ভয়ের মধ্যে।
কয়রার বাসিন্দা আব্দুর রাহমান বলেন বাঁধ হলে আমাদের কারো কাছে হাত পেতে কিছু চাইতে হবে না ,আমরা কর্ম করে খেতে পারব। এলাকার মানুষের জীবিকা নদী এবং সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল।
কয়রা এলাকার অনেকের মতে, বিশুদ্ধ পানির অভাবও তীব্র। সাধারণ টিউবওয়েলগুলি বছরের বেশ কয়েক মাস জল সরবরাহ করে না। যাদের সাবমার্সিবল আছে তারা কিছুটা স্বস্তি পান।
এখানে নারীদের জীবন সংগ্রাম আরও ভয়াভহ পুরুষদের কাজের মজুরী ৪০০ টকা হলেও ,সমান কাজ করা নারীদের কাজের মজুরী ৩০০ টাকা ।পুস্প নামের এক নারী বলেন ছেলে মেয়ের পড়ালেখার জন্য মাঠে কাজ করি ।তারা এলাকার বাহিরে খুলনায় পরে ।
উপ সহকারী প্রকৌশলী খুলনা পাউবো-২ সোলাইমান হোসেন বলেন কয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ড মূলত খুলনা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর আওতাধীন। এটি কয়রা উপজেলার বেড়িবাঁধ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে।কয়রায় বেড়িবাঁধ শক্তিশালীকরণ ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রকল্পগুলো এই বিভাগ থেকে তদারকি করা হয়।প্রকল্পটি ২ ডিবিশন মিলে কাজ হচ্চে ২০২৭ সালে কাজ শেষ হবে।যদি এটি সম্পন্ন হয়, তাহলে মানুষের জীবন অন্তত কিছুটা নিরাপদ হবে।

