জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাপানের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। এ নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ-জাপানের সপ্তম পররাষ্ট্র দপ্তর আলোচনা সভা (এফওসি)। পাশাপাশি দুই দেশের বহুমাত্রিক সহযোগিতা, জাপানের বিগ-বি উদ্যোগের আওতায় অবকাঠামো প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য জাপান সফর নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সপ্তম এফওসিতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। অন্যদিকে, জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপমন্ত্রী হিরোউকি নামাজু সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দুই দিনের সফরে তিনি ঢাকায় এসেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা বর্তমানে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এশীয় দেশগুলোর জ্বালানি সম্পদ সংগ্রহে জাপানের সদ্য ঘোষিত অর্থায়ন কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশ কীভাবে সুবিধা নিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করতে চায় ঢাকা।
তিনি বলেন, এশীয় দেশগুলোকে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনায় অর্থায়নের জন্য জাপানের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহী।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে বিঘ্নের প্রেক্ষাপটে এশীয় দেশগুলোকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং মজুত শক্তিশালী করতে সহায়তার জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি অর্থায়ন কাঠামো প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় জাপান।
তবে আজকের বৈঠকে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট কোনো অর্থের দাবি জানাবে না বলে ওই কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, প্রথমে জাপানের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিতে চায় ঢাকা। তবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অর্থায়নের বিষয়টি আলোচনায় বাংলাদেশের অগ্রাধিকার থাকবে।
জাপান-নেতৃত্বাধীন এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক প্লাস) উদ্যোগের আওতায় এপ্রিলের একটি বৈঠকের পর এই অর্থায়ন কাঠামোর ঘোষণা দেয় টোকিও। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বাংলাদেশের তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছিলেন।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জাপান ইতোমধ্যে তার অর্থায়ন কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশকে ৩১২ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ সহজ শর্তের ঋণের জন্য গত ৯ জুন জাপানের সঙ্গে দুটি নথিতে স্বাক্ষর করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
এরপর জুলাইয়ের শুরুতে জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী তোমোকি শিমাদার ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ ওই সহায়তা ৩১২ মিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলার করার অনুরোধ জানায়। বাংলাদেশের এই অনুরোধে টোকিও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
এফওসিতে জাপানের বিগ-বি উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশের প্রধান অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা নিয়েও আলোচনা হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ও বহুমাত্রিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফর নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কালের সমাজ/এসআর

