ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন

মোদির বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদ উচ্ছেদের নির্দেশ

কালের সমাজ ডেস্ক | অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১০:২৭ এএম মোদির বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদ উচ্ছেদের নির্দেশ

দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ খালি করার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে। রেসকোর্স মসজিদ নামে পরিচিতি এই মসজিদটিকে ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ দাবি করে এ নির্দেশ দেয়া হয়। এর আগে ঐতিহাসিক এই মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার বলছে, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) মসজিদটিকে ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ হিসেবে উল্লেখ করে উচ্ছেদের এই নোটিশ দেয় ভারতের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডিও)। নোটিশে ছয় দিনের মধ্যে স্থাপনাটি খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অবশ্য মসজিদ ও পাশের কবরস্থান রক্ষায় মোদি সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। এছাড়া মসজিদটির ইমাম অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি নিয়ে দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ড কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন বলছে, নয়াদিল্লি পৌর কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ওয়েবসাইটে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় রয়েছে রেসকোর্স মসজিদটি। এরপরও গত ৭ অক্টোবর মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। এতে সেখানে নামাজ আদায়ের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

ভারতের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবস্থিত। এ নিয়ে বিরোধের মধ্যে স্থাপনাটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে রেসকোর্স মসজিদ ও এর পাশের কবরস্থান রক্ষায় ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির প্রতিনিধিদলের পক্ষে মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন।

এতে বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেটে উল্লেখিত এনডিএমসির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট স্থানটির নাম রয়েছে। সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত হালনাগাদ তালিকাতেও এর উল্লেখ রয়েছে বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ড ও এনডিএমসির কাছ থেকেও প্রতিবেদন চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি ভাঙার কোনো পদক্ষেপ না নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জমিয়তের আবেদন শুনেছেন কিরেন রিজিজু। বিষয়টি সমাধানে ‘সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা’ করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে দ্য হিন্দুস্তান গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদটির ইমাম মোহাম্মদ হারুন এক ভিডিওবার্তায় অভিযোগ করেছেন, গত ছয় মাস ধরে তিনি বিষয়টি নিয়ে দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলেও কোনো ফল পাননি।

তার অভিযোগ, ঐতিহাসিক এই মসজিদে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি জানিয়ে এনডিএমসিকে চিঠি দেয়া ছাড়া সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বোর্ড।

হারুন বলেন, ‘আমি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের প্রধান নির্বাহীর কাছে বারবার আবেদন করেছি, কিন্তু আমার অভিযোগে কোনো গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এখন খাবার পানীয়ও শেষ হয়ে গেছে। মসজিদে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়ায় অন্য কোথাও থেকে পানি আনা যাচ্ছে না। ফলে মসজিদে যাতায়াত করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওয়াক্‌ফ বোর্ডকে এ বিষয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। পরে নিজে আদালতে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছি। দুঃখজনকভাবে, ওয়াক্‌ফ বোর্ড নিজেও আদালতে যায়নি, আবার আমাকেও আদালতে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।’

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!