ইরানে হামলা চালালে কোথায় কোথায় তা হবে তার একটি বিস্তারিত তালিকা চলে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। এ তালিকায় আছে কমপক্ষে ৫০টি সামরিক টার্গেট।
ওয়াশিংটনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান (ইউএএনআই) এই লক্ষ্যতালিকা তৈরি করে সোমবার ভোরে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠকের আগেই এই নথি দেয়া হয় বলে সংস্থাটি লন্ডনের ডেইলি মেইলকে জানিয়েছে।
ডেইলি মেইল তার খবরে আরো বলেছে, নথিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর থারাল্লাহ সদর দপ্তরের সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান (কো-অর্ডিনেট) উল্লেখ করা হয়েছে। এই সদর দপ্তরকে বিক্ষোভ দমনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং কার্যত এটি নিরাপত্তা বাহিনীর স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এখান থেকে পুলিশ বাহিনীর ওপরও অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়।
টার্গেটের তালিকায় তেহরানের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চারটি গুরুত্বপূর্ণ উপসদর দপ্তরের কথাও উল্লেখ আছে। এগুলো হলো- কুদস উপসদর দপ্তর: উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম তেহরানে দমন অভিযান পরিচালনা করে তারা। ফতেহ উপসদর দপ্তর: দক্ষিণ-পশ্চিম তেহরানে তাদের কার্যক্রম। নাসর উপসদর দপ্তর: উত্তর-পূর্ব তেহরানে তাদের নিয়ন্ত্রণ। ঘাদর উপসদর দপ্তর: দক্ষিণ-পূর্ব ও কেন্দ্রীয় তেহরান নিয়ন্ত্রণ করে এই দপ্তর।
এই নির্দিষ্ট স্থাপনা ও ইউনিটগুলো চিহ্নিত করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখন আইআরজিসির সেই সক্ষমতার একটি ব্লুপ্রিন্ট হাতে পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের নাগরিকদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চালায়, যা ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে এবং বিক্ষোভকারীদের সহায়তার বিকল্প ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
ইউএএনআইয়ের আইআরজিসি বিষয়ক গবেষণা পরিচালক কাসরা আরাবি বলেন, নিরস্ত্র ইরানি বিক্ষোভকারী ও সম্পূর্ণ সশস্ত্র ও উগ্র দমনযন্ত্রের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য না বদলালে বিক্ষোভ ও দমনপীড়নের এই চক্র চলতেই থাকবে।
নথিতে তেহরানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটি গোপন কমান্ড অবকাঠামোর কথাও বলা হয়েছে, যা আইআরজিসির সবচেয়ে উগ্র ইউনিটগুলোর গোয়েন্দা, পুলিশি ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযান সমন্বয় করে। তাদের টার্গেটের তালিকায় রয়েছে ২৩টি আইআরজিসি-বাসিজ আঞ্চলিক ঘাঁটি, যা তেহরানের ২২টি পৌর অঞ্চলে অবস্থিত। বাসিজ হলো আইআরজিসির অভ্যন্তরীণ মিলিশিয়া বাহিনী। রক্তক্ষয়ী অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিগেড- আলে-ই মোহাম্মদ সিকিউরিটি ব্রিগেড (উত্তর-পূর্ব তেহরান) ও আল-জাহরা সিকিউরিটি ব্রিগেড (দক্ষিণ-পূর্ব তেহরান)। এ তালিকা সম্পর্কে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।
কালের সমাজ/এসআর


আপনার মতামত লিখুন :