করাচির বিশাল গুল প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ২৬। নিখোঁজ প্রায় ৮৩ জন। ধোঁয়ায় ঢাকা ধ্বংসস্তূপ থেকে ফায়ারফাইটার ও উদ্ধারকর্মীরা মৃতদেহ উদ্ধার করছেন।
শনিবার গভীর রাতের এ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে জিও নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাউথ ডিস্ট্রিক্টের ডেপুটি কমিশনার জাভেদ নবী খোসো জানান, সোমবার রাতেও আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩। তিনি বলেন, ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোর ও প্রথম তলা ইতিমধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন।
এক দশকের মধ্যে করাচির সবচেয়ে বড় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় শনিবার গভীর রাতে। বহুতল এই মার্কেটে প্রায় ১২০০ দোকান আছে। এর আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। করাচির ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত এই ভবনে আগুন ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলতে থাকে। এরপর তা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, আগুন পুরো ভবন গ্রাস করে ফেলছে এবং ফায়ারফাইটাররা সারারাত ধরে আগুন নেভাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। সোমবার তারা ভবন ঠাণ্ডা করার কাজ শুরু করেন এবং রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা বাঁকা ধাতব কাঠামো, ধ্বংসাবশেষ, পড়ে থাকা এসি ইউনিট ও দোকানের সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলতে থাকেন।
সোমবার বিকেলের মধ্যে ভবনের বেশিরভাগ অংশ ধসে পড়ে। অবশিষ্ট কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় ক্রেন দিয়ে সেটিও গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
কাসির খান জানান, তার স্ত্রী, পুত্রবধূ ও পুত্রবধূর মা শনিবার সন্ধ্যায় মার্কেটে গিয়েছিলেন এবং তারা এখনও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এখান থেকে লাশ টুকরো টুকরো হয়ে বের হবে। কেউ চিনতেই পারবে না। উদ্ধারকাজ যথেষ্ট দ্রুত হয়নি, চাইলে অনেক মানুষকে বাঁচানো যেত। শত শত মানুষ ভবনটি ঘিরে ভিড় জমান। তাদের অনেকেই দোকান মালিক। তাদের সারা জীবনের পরিশ্রম এক রাতেই ছাই হয়ে গেছে।
কালের সমাজ/এসআর

