ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮৮ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের আলেমদের পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মঙ্গলবার এ বিষয়ে দুটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার সকালেই ৫৬ বছর বয়সী মোজতবার নাম ঘোষণা করার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ এই মুহূর্তে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
এর আগে শিয়া ইসলামের অন্যতম কেন্দ্র কোম শহরে এই পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ইসরায়েল একটি ভবনে হামলা চালায়। তবে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট ফার্স নিউজ জানিয়েছে, হামলার সময় ভবনটি খালি ছিল।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ইরান বিশেষজ্ঞ ভ্যালি নাসর বলেন, মোজতবা নির্বাচিত হলে বুঝতে হবে ইরানের শাসনব্যবস্থায় এখন কট্টরপন্থি রেভল্যুশনারি গার্ডের নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা দীর্ঘদিন পর্দার আড়াল থেকে তার বাবার সাম্রাজ্য পরিচালনায় প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছেন। শনিবার মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনির সঙ্গে মোজতাবার স্ত্রী জাহরা আদেল, মা মানসুরেহ খোজাসতেহ এবং তার এক ছেলেও নিহত হয়েছেন।
তেহরানের বিশ্লেষক মেহেদি রহমতি মনে করেন, দেশের সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকায় বর্তমান সংকটে মোজতবাই সবচেয়ে যোগ্য পছন্দ। তবে তার নিয়োগে জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বা জনরোষ তৈরি হতে পারে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, গত কয়েক মাসে ইরানে অন্তত ৭ হাজার মানুষ সরকারি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন।
মোজতবা ছাড়াও চূড়ান্ত তালিকায় আরও দুইজনের নাম রয়েছে। তারা হলেন- আলেম ও আইনবিদ আলিরেজা আরাফি এবং ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি সৈয়দ হাসান খোমেনি। এই দুজনই তুলনামূলক মধ্যপন্থি হিসেবে পরিচিত। তবে মোজতবার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ আবদোলরেজা দাভারি মনে করেন, ক্ষমতায় এলে মোজতবা সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন সালমানের মতো প্রগতিশীল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন।
এদিকে ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সম্ভাব্য নেতাদের অনেকেই ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন। ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি আগের নেতার মতোই খারাপ কেউ ক্ষমতায় আসে। আমরা তেমনটা চাই না।

