ঢাকা শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত

নিজস্ব প্রতিবেদক | এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত। তিনি বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য কেবল প্রবৃদ্ধি নয়; বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী এসব কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর প্রভাবে সরকারকে চলতি অর্থবছরের মার্চ সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজিতে নির্ধারিত ভর্তুকির চেয়ে অতিরিক্ত ভর্তুকি আরও প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা প্রদান করতে হবে। এটি একদিকে যেমন সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়ানোর সম্ভাবনার দিকে যাবে, অন্যদিকে সমপরিমাণ প্রায় তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি মূল্য পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রভাব ফেলবে।

সরকার এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, একটি আমদানি-নির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে নয়। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকারের অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রদানের প্রয়োজন হলেও জনগণের কষ্টের কথা মাথায় রেখে সরকার এখন পর্যন্ত মূল্য সমন্বয় না করে পূর্বের মূল্যই বহাল রেখেছে। এই প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিবেশের মধ্যেই আমাদের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে এবং আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত। আমরা অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা স্থাপন করে নানামুখী চাপ মোকাবিলা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ের কাজ হাতে নিয়েছি। নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেটের প্রতি জনগণের যে বিপুল প্রত্যাশা, সে সম্বন্ধে আমরা সম্পূর্ণ সচেতন। অন্যদিকে জনগণ উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমাদের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রাখবেন, এটাও আমরা আশা করি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের এবারের লক্ষ্য কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জনমানুষের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করে এবং অর্থনৈতিক গতির পথে যাত্রা শুরু করে। অতঃপর আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক ভঙ্গুর অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করেন। কৃষি ও শিল্পের বিকাশ, বৈদেশিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি, মধ্যবিত্তের বিকাশ ঘটিয়ে দীর্ঘদিন প্রবৃদ্ধির পথপরিক্রমার সূচনা করেছিলেন। ভ্যাট ব্যবস্থার প্রবর্তন, শুল্ক ও আমদানি কাঠামো আধুনিকীকরণ, বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব নীতির মাধ্যমে তিনি অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার উত্তরাধিকার ধারণ করে আমরা আজ আবার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি প্রোগ্রেসিভ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই পথে পরিচালিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা এটি করতে চাই স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতার ওপর নির্ভর করে এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভিশনারি চিন্তার মাধ্যমে এটি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।


কালের সমাজ/এসআর

Link copied!