রাজধানীতে জনভোগান্তির আরেক নাম বর্জ্যের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস)। ঢাকার দুই সিটিতে থাকা ১২০টি এসটিএসের বেশিরভাগই গড়ে উঠেছে রাস্তার পাশে কিংবা আবাসিক এলাকায়। ফলে এসব কেন্দ্র ঘিরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়েকটি এসটিএস আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় সড়কের পাশেই গড়ে উঠেছে এমন একটি ময়লার ভাগাড়। বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ করে প্রথমে আনা হয় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে। পরে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে সেগুলো পাঠানো হয় ল্যান্ডফিলে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) রয়েছে ৫৬টি এবং দক্ষিণ সিটিতে রয়েছে ৬৪টি এসটিএস।
তবে নগরীর ভেতরে এসব ময়লার স্তুপ প্রতিদিনই বাড়াচ্ছে জনদুর্ভোগ। দিন-রাত ময়লার গাড়ির আনাগোনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলা এবং সময়মতো অপসারণ না হওয়ায় বাড়ছে দূষণ। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় এসটিএসের আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে ময়লাযুক্ত পানি, সৃষ্টি হয় চরম ভোগান্তি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। বৃষ্টি হলেই কাদা ও ময়লা পানিতে দুর্ভোগ বেড়ে যায়। দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
দুর্গন্ধ, ময়লার স্তূপ ও অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ স্থানীয়রা আরও জানান, ময়লার গাড়ির কারণে নতুন নির্মিত সড়কও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এসটিএসকে ঘিরে ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে ভাঙারির দোকানসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা।
তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসসিসি। ইতোমধ্যে ধানমন্ডি, মালিবাগ ও সবুজবাগ এলাকার কয়েকটি এসটিএসকে আধুনিক রূপ দেওয়া হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন গ্রাফিতি ও ফুলের বাগানে বদলে গেছে এসব এলাকার পরিবেশ।
ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, “এসটিএসগুলোর সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে পারলে এগুলোকে জনগণের জন্য একটি রিক্রিয়েশন প্লেস হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, “পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করে রিসাইক্লিং করা গেলে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে আসবে।”
অন্যদিকে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম জানান, “১০০ টন ময়লাকে ৬০ টনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য নতুন কিছু প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে।”
শহরকে দূষণমুক্ত রাখতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দুই সিটি করপোরেশনই।
ময়লার ভাগাড় ঘিরে গ্রাফিতি ও ফুলের বাগানের এমন উদ্যোগ স্থানীয়দেরও প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাদের দাবি, রাজধানীর সব এসটিএসকেই যেন ধীরে ধীরে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব রূপ দেওয়া হয়।
কালের সমাজ/এসআর

