ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
হাসপাতাল নিজেই আইসিইউতে

সংসদে সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি | জুন ৭, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম সংসদে সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। ছবি : সংগৃহীত

যে হাসপাতাল মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা, সেই হাসপাতাল আজ নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।

রোববার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (প্রথম বাজেট অধিবেশন) চলাকালে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, শেরপুরের ১৭ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা হাসপাতালের করুণ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরতে আমি মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়েছি। যে হাসপাতাল মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা, সেই হাসপাতাল আজ নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে।

শেরপুর সদরের চরাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তা বর্তমানে কাঁচা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যখন একজন অসুস্থ ব্যক্তি, একজন মুমূর্ষু রোগী কিংবা গর্ভবতী মা জীবন বাঁচানোর শেষ আশায় শেরপুর সদর হাসপাতালে আসে, তখন বেড না পেয়ে তাদের হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা কিংবা করিডোরে দিনের পর দিন কাতরাতে হয়। বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

তিনি আরও বলেন, যেখানে সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টির মধ্যে ১০টি পদই শূন্য, সেখানে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীদের। সেখানে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, কিন্তু চালক নেই। ৯ তলা ভবন রয়েছে, কিন্তু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত লিফট নেই।

তিনি জানান, করোনাকালীন শেরপুর সদর হাসপাতালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে বর্তমানে ইউনিটগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ইউনিটটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্রপাতিও চুরি হয়ে যাচ্ছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের একটি অংশ দালাল, চোর, ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের অপরাধকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পাশের ময়লার ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ সুস্থ মানুষকেও অসুস্থ করে তুলছে।

সংরক্ষিত আসনের এই এমপি বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে এই সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গত আট বছরে ছয়বার নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কারণে পরীক্ষাটি বারবার পিছিয়ে যায়।

কালের সমাজ/এএইচবি
 

Link copied!