ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
কেন হঠাৎ পড়ে গেল দাম?

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ-রুপার বড় দরপতনের নেপথ্যে

কালের সমাজ ডেস্ক | জুন ২৩, ২০২৬, ০১:২১ পিএম বিশ্ববাজারে স্বর্ণ-রুপার বড় দরপতনের নেপথ্যে
সংগৃহীত ছবি

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছর সুদের হার বাড়াতে পারে, এমন প্রত্যাশায় ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দেড় শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৯ দশমিক ১৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৭ দশমিক ১০ ডলারে নেমে এসেছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, চলতি সপ্তাহে তেলের দাম কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজার কিছুটা স্বস্তি পেলেও শক্তিশালী ডলারের কারণে সেই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না। ফেডের সম্ভাব্য সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশায় ডলার ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে ডলার এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি স্থিতিশীল ছিল। এর ফলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

এদিকে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সোমবার থেকে ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে লেবাননের সংঘাতেও দীর্ঘস্থায়ী বিরতি এসেছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনা একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির জন্য ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

শিকাগো ফেডের প্রেসিডেন্ট অস্টান গুলসবি বলেছেন, শ্রমবাজার স্থিতিশীল থাকায় তিনি এখন পর্যবেক্ষণ করছেন যে উচ্চ শুল্কের প্রভাব কমে গেলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সমাধান হলে মুদ্রাস্ফীতি বর্তমান উচ্চ পর্যায়ে থাকবে নাকি কমে আসবে।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজার এখন ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। গত সপ্তাহে ফেডের বৈঠকের আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৬১ শতাংশ।

এছাড়া বিনিয়োগকারীরা ফেডের পরবর্তী নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে এ সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। এটি ফেডের পছন্দের মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপক হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৭৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৩৬ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে।  

কালের সমাজ/এএইচবি 
 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!