অতিভারী বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢলের কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার সংলগ্ন নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে এই সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বন্যার আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ১৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত নদীর পানির উচ্চতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং মঙ্গলবার বিকালে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ফলে তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলে আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীতীরবর্তী এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কালের সমাজ/এএইচবি

