সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত এবং ১১৯৭ জন আহত হয়েছেন।
এই সময়ে ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত ও ১৩৭ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। নিহতের ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং আহতের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার।
ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে—১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছেন। আর সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে—২২টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনার খবর বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৫৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৯৩ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ৪ জন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ২ জন সাংবাদিক, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় পাওয়া গেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনাসদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ২ জন আনসার সদস্য, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু, ৪৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪ জন শিক্ষক এবং ৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
এই সময়ে দুর্ঘটনায় জড়িত ৬৮৭টি যানবাহনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩ দশমিক ৭২ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ২৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ নসিমন, করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ গাড়িচাপা, ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বিভিন্ন কারণে, ০ দশমিক ২২ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে এবং ১ দশমিক ১১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪২ দশমিক ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২৭ শতাংশ ফিডার রোডে ঘটেছে। এছাড়া ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনা ঢাকা মহানগরীতে, ০ দশমিক ৪৪ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ১ দশমিক ১১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ মতে, সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—সড়ক পরিবহন খাতে নীতি ও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত যানবাহন ও মোটরসাইকেল চলাচল, রোড সাইন ও রোড মার্কিংয়ের অভাব, মিডিয়ান বা ডিভাইডার না থাকা, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানো।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংগঠনটি কয়েকটি সুপারিশও করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—দক্ষ চালক তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা, সিসিটিভির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা, চাঁদাবাজি বন্ধ করা, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, সড়ক নিরাপত্তা অডিট চালু করা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন পর্যায়ক্রমে স্ক্র্যাপ করা।

