ঢাকা শনিবার, ০৭ মার্চ, ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২

৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্ক নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আশার আলো

জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ | মার্চ ৬, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম ৬৮ মেগাওয়াট সোলার  পার্ক নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে আশার আলো

বিদ্যুৎখাতে বিপুল দেনার দায় কাঁধে নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে যমুনা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত সিরাজগঞ্জ ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্ক। অব্যবহৃত জমির ওপর গড়ে ওঠা এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি জমির বহুমাত্রিক ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রয়েছে এই সোলার পার্ক। ইনস্টল ক্যাপাসিটি ৭৫ মেগাওয়াট হলেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী ৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গড়ে ১৮ দশমিক ৫০ শতাংশ প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর অর্জন করেছে, যা গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এখানে মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৬টি মনোক্রিস্টালাইন বাইফেসিয়াল পিভি মডিউল স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটির ক্ষমতা ৫৪৫ কিলোওয়াট-পিক। স্থাপিত মোট ক্ষমতা ৮৫ দশমিক ৩৩ মেগাওয়াট পিক (ডিসি) এবং ৭৫ মেগাওয়াট (এসি)। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৭২টি ইনভার্টার, ১২টি ইনভার্টার স্টেশন এবং একটি ১০০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন মেইন ট্রান্সফরমার রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৩৩/১৩২ কেভি ভোল্টেজে রূপান্তর করে প্রায় ১০ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক তানবীর রহমান জানান, যমুনা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে প্রকল্প এলাকা পানিতে প্লাবিত থাকে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে অবকাঠামো নির্মাণ ও সোলার প্যানেলের মাউন্টিং স্ট্রাকচার উঁচু পাইলের ওপর স্থাপন করা হয়েছে। ফলে বর্ষার সময় প্যানেল নিরাপদ থাকে এবং শুকনা মৌসুমে নিচের জমি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জমির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে সোলার প্যানেলের নিচে পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ এবং গবাদিপশু পালন করা হচ্ছে, যা কৃষিক্ষেত্রেও ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এবং চীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে গঠিত বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানি লিমিটেড (বিসিআরইসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।
প্রকল্প সূত্রে আরও জানা যায়, সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য সামনে রেখে প্রকল্প এলাকার পাশে প্রায় ৭৫ একর অনাবাদি জমি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলা ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে এ ধরনের সোলার পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উল্লেখ্য, যমুনা নদীর তীরবর্তী সয়দাবাদ এলাকায় প্রায় ২১৪ একর জমির ওপর নির্মিত সিরাজগঞ্জ ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পার্কটি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে ইতোমধ্যে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে। পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন, জমির সমন্বিত ব্যবহার এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদের সমান্তরাল উন্নয়ন—সব মিলিয়ে প্রকল্পটি টেকসই উন্নয়নের একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Link copied!