চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেলের একটি গোপন ভাণ্ডারে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় প্রায় ছয় হাজার লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর আগেই কানে যাওয়ায় সটকে পড়েন চোরা কারবারিরা। তাই জড়িত চক্রের কাউকেই আটক করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরের দিকে পতেঙ্গা বিমানবন্দরের কমিশনার ঘাট এলাকায় জেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযানে এই বিপুল জ্বালানি জব্দ করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন খবরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ৩০টি ড্রামে সংরক্ষিত প্রায় ছয় টন ডিজেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডিজেল লোডিং ও আনলোডিংয়ের কাজে ব্যবহৃত তিনটি শক্তিশালী মোটরচালিত পাম্পও জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ করা ডিজেল ও সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা। অভিযানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে পরিবহনের সময় একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সরিয়ে তা স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রি করে আসছিলো। স্থানীয়দের দাবি, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় আট থেকে ১০টি গোপন স্থানে মোটর পাম্প বসিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার তেল বেচাকেনা করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চললেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ আগে সেভাবে দেখা যায়নি।
অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার বলেন, অভিযানে বিপুল পরিমাণ তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পতেঙ্গা মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং উদ্ধার করা জ্বালানি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এদিকে, অভিযানের খবর পেয়ে জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে পতেঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ মজুত প্রতিরোধে এ ধরনের কঠোর অভিযান পতেঙ্গা ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
কালের সমাজ/এসআর

