জানাগেছে, আমতলী পৌর শহরের বটতলা এলাকার আব্দুর রব ও তার ভাগ্নে লিটন সিকদারের মধ্যে তিন ফুট জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
গত রবিবার সকালে ওই জমিতে আব্দুর বর হাওলাদারের জামাতা সেনা সদস্য শাহজাহানের নেতৃত্বে তার দুই ছেলে রাকিব ও সাকিবসহ ৮-১০ জনে কাজ কাজ শুরু করে। ওই সময় ভাগ্নে লিটন সিকদার এতে বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সেনা সদস্য শাহজাহান, আব্দুর বর ও তার লোকজন লিটন সিকদারকে মারধর করে।
তাকে রক্ষায় তার ভাই রিপন সিকদার এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করে। দুই ছেলেকে রক্ষায় বৃদ্ধা মা জরিনা বেগম এগিয়ে গেছে তাকে পিটিয়ে জখম করে। স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ মোস্তফা বৃদ্ধা জরিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে মারা যান। ওই হাসপাতালে বুধবার দুপুরে ময়না তদন্ত করা হয়েছে বলে পারিবারিক সুত্রে জানাগেছে।
এ ঘটনায় গত রবিবার আমতলী থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে সেনা সদস্য শাহজাহানের প্রভাবে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। আহত জরিনা বেগমের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সেনা সদস্য শাহজাহান ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পালিয়েছেন।
নিহত বৃদ্ধা জরিনার বেগমের ছেলে রিপন সিকদার বলেন, তিন ফুট জমি নিয়ে মামা আব্দুর রব হাওলাদারের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। সেনা সদস্য শাহজাহান প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে গত রবিবার সকালে দখল করতে যায়। এ সময় আমার ভাই লিটন সিকদার বাধা দিলে তাকে মারধর করে। আমি ভাইকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে আমাকেও মারধর করে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দুই ভাইকে রক্ষায় মা এগিয়ে গেলে তাকে শাহজাহান, আব্দুর রব, তার দুই ছেলে সাকিব, রকিব ও তানজিলসহ ৭৮-১০ জনে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। বুধবার সকালে মা চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে মারা গেছেন।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সেনা সদস্য শাহজাহান ও তার শ্বশুর আব্দুর রব হাওলাদার, দুই ছেলে সাকিব ও রকিবসহ জড়িতদের শাস্তি দাবী করছি।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, নিহত বৃদ্ধার পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এর আগে উভয় পক্ষ অভিযোগ দিয়েছিল।
কালের সমাজ/ কে.পি

