সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌর শহরের ভাদাশ গ্রামের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী ছাবেদান খাতুনের জীবনের গল্প যেন এক হৃদয়বিদারক বাস্তবতা। স্বামী জীবিত থাকলেও তিনি স্বামীর কাছ থেকে ভাত-কাপড় পান না। একইভাবে তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে বিয়ে হয়ে নিজ নিজ সংসারে ব্যস্ত থাকলেও কেউই মায়ের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেননি। ফলে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে এই বৃদ্ধা মাকে।
জানা যায়, ছাবেদান খাতুনের স্বামীর নাম মো: আবু বক্কার। তিনি একসময় গ্রাম পুলিশের চাকুরী করতেন এবং বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত।তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে তার ছোট স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা সংসার করছেন। এ অবস্থায় ছাবেদান খাতুন স্বামী থাকা সত্ত্বেও অন্যের বাড়িতে কাজ করেই চলে তার সংসার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বয়সের ভারে ন্যুব্জ ছাবেদান খাতুন পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কখনো বাসন মাজা, কখনো ঘর পরিষ্কার—এভাবেই দিন চলে তার। অসুস্থ শরীর নিয়েও কাজ না করলে জোটে না একমুঠো খাবার।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, মাথা গোঁজার মতো নিজের কোনো ঘরও নেই তার। কখনো পরিচিত কারো বারান্দায়, কখনো অন্যের ঘরের এক কোণে রাত কাটাতে হয় তাকে। বৃষ্টি বা ঝড়ের সময় তার দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একজন মা যিনি সন্তানদের লালন-পালন করে বড় করেছেন, সেই মাকেই যখন জীবনের শেষ সময়ে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়, তখন তা সমাজের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। তারা দ্রুত এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
ছাবেদান খাতুনের মতো অসহায় মানুষের জন্য সমাজের সহমর্মিতা ও সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি। সামান্য সহায়তাই তার জীবনে এনে দিতে পারে একটু স্বস্তি ও নিরাপত্তা।
কালের সমাজ/ কে.পি

